ফিলিপ বাবলু বিশ্বাস
প্রভু যিশু খ্রিস্ট (অভিষিক্ত) গুড ফ্রাইডে বা পুণ্য শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ক্রুশকাষ্ঠে ঝুলে প্রাণত্যাগ করেন। তার পূর্বে তাকে ইহুদি জাতির প্রবীণ নেতা ও ফরিশিদের ষড়যন্ত্রে যিশুর ১২ জনের একজন শিষ্য ইস্কারিয়তীয় যিহুদিয়ার বিশ্বাস ঘাতকতায় (৩০টি রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে) যিহুদিয়ার রাজা হেরোদ ও রোমান সম্রাট পিলাতের নির্দেশমতো যিশুকে চাবুক দিয়ে আঘাত করানো হয় এবং ইহুদি নেতাদের চক্রান্তে তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করার নির্দেশ আদায় করার পর রোমান সৈন্যদের সাহায্যে জেরুশালেমের গাবগাথা বা মাথার খুলিতলা নামক স্থানে ক্রুশে বিদ্ধ করে সত্যিই মারা গেছেন কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বুকে বর্শা নিক্ষেপ করে। যিশু মৃত্যুবরণ করেছেন জগতের সকল মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে। তাই তাকে বলা হয় মুক্তিদাতা, উদ্ধারকর্তা, ত্রাণকর্তা।
যিশু মৃত্যুর পূর্বে তিনবার তার শিষ্যদের সামনে তার মৃত্যুর বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তারই ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন রবিবার প্রত্যুষে পুনরুত্থান করেন। রবিবার খুব ভোরে যিশুর মা মারিয়া ও মগ্দোলিমি মারিয়াসহ কয়েকজন স্ত্রীলোক সুগন্ধি তেল নিয়ে যিশুর কবরে গিয়ে দেখতে পান, কবরের মুখে রাখা বড় পাথরখানা সরানো! একজন স্বর্গীয় দূত তাদের বলছেন, ‘তোমরা মৃতদের মধ্যে জীবিতকে খুঁজছো কেন? তিনিতো আগেই তোমাদের বলেছিলেন, মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে তিনি উঠিবেন। তিনি আর কবরে নাই, তার কবর শূন্য। তিনি পুনরুত্থান করিয়াছেন! তার শিষ্যদের খবর দাও।’
তখন ওই মহিলারা দৌড়ে এসে শিষ্যদের সব কিছুই বললেন। তা শোনামাত্র পিতর ও জোহন নামে দুই শিষ্য ছুটে গিয়ে দেখেন যিশুর কবর শূন্য, কাফনের কাপড়গুলো পড়ে আছে। তাই একটি গানে আছে, ‘কবরে নাইরে যিশু কবরে নাই, যিশু মৃত্যুকে জয় করেছেন আর শংকা নাই। বস্ত্রগুলি পড়ে আছে, দূতে করে সাক্ষ্যদান।’
যিশুর পুনরুত্থান দিনকে পৃথিবীর সকল খ্রিস্ট বিশ্বাসী ভাই-বোনরা ‘ইস্টার সানডে’ অর্থাৎ খ্রিস্টান ধর্ম বিশ্বাসীদের দ্বিতীয় বৃহৎ বিশেষ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপন করেন। পৃথিবীর সকল ভাববাদী ও মহামানবদের মধ্যেই তিনিই অন্যতম। কারণ তার জন্ম পবিত্র আত্মার (পাক রুহ) প্রভাবে কুমারী মা মারিয়া বা মাতা মরিয়মের গর্ভে। তিনিই কেয়ামতের সময় আবার আসবেন। তার মাত্র ৩৩ বছরের জীবনের মধ্যে মাত্র তিন বছর সত্যের বাণী, মানুষের স্বর্গরাজ্যে যাওয়ার বিষয়ে করণীয়, সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ হিসাবেই তিনি মানববেশে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমিই সত্য, পথ ও জীবন, আমাদিয়া কেহই না আসিলে, সে পিতার রাজ্যে (পরম দেশে) যেতে পারে না।’
খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, যিশু একাধারে মানুষ ও ঈশ্বর ছিলেন। কারণ যিশু বলছেন, ‘আমি ও পিতা এক।’ খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা এও বিশ্বাস করেন যিশু ঈশ্বরের পুত্র। কারণ তার জন্ম, অলৌকিক কাজগুলো (একাধিক মৃতকে জীবন দেওয়া, জন্মান্ধকে দৃষ্টিশক্তি দেওয়া, ৩৮ বছরের খঞ্জকে চলার শক্তি দেওয়া, ঝড় থামানো, পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে পাঁচ হাজার লোককে খাওয়ানোসহ আরো অনেক আশ্চর্য কাজ) মৃত্যু, পুনরুত্থান, দ্বিতীয় আগমন সবই অলৌকিক, এমনকি পবিত্র বাইবেলের ৪০ জন লেখক অসংখ্য জায়গাতেই উল্লেখ করেছেন, যিশু নিজেই বারবার বলেছেন, ‘ঈশ্বর পিতা আমাকে পাঠিয়েছেন, আমি পিতার কাছে যাচ্ছি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করতে।’
লেখক: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, যশোর
*মতামত লেখকের নিজস্ব