ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সাগরিকা আক্তার বুলবুলি (৩০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শিমুল হোসেনের (৩৭) বিরুদ্ধে।
রোববার (২৪ মে) ভোররাতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সাগরিকা আক্তার বুলবুলি সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের ইন্তাজ আলী বিশ্বাসের মেয়ে। অভিযুক্ত শিমুল হোসেন একই উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। শিমুল প্রায়ই তার স্ত্রী বুলবুলির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুলবুলির পরিবারের দাবি, শিমুল মূলত বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাকে নিয়মিত চাপ দিত এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
নিহতের পিতা ইন্তাজ আলী বিশ্বাস অভিযোগ করে জানান, কয়েক দিন আগে শিমুল তার মেয়েকে মারধর করলে বুলবুলি রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে আসে।
পরে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে ও ক্ষমার আশ্বাস দিয়ে মাত্র তিন দিন আগে (গত বৃহস্পতিবার) বুলবুলিকে আবার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে শিমুল। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পরও তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও জানান, শনিবার গভীর রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিমুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে পরিবারের অন্য সদস্য ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত স্বামী শিমুলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।