স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের শার্শায় ৮৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় দুই মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অপর এক আসামিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২৪ মে) যশোরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শার্শা উপজেলার পাঁচভুলট গ্রামের (দক্ষিণপাড়া) আজিবার বদ্দির ছেলে সাজু বদ্দি ও হযরত আলীর ছেলে আলামিন। দুই বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন একই গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান।
রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তারা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পলাশ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে শার্শার পাঁচভুলট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজগঞ্জ গ্রাম থেকে অভয়বাসগামী একটি কাঁচা রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। গভীর রাতে মাঠের দিক থেকে তিনজনকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মেহেদী হাসান ও সাজু বদ্দিকে আটক করা হলেও অপর আসামি আলামিন তার হাতের ব্যাগ ফেলে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে আটকে রাখা দুইজনের ব্যাগ ও ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি করে মোট ৮৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি।
এ ঘটনায় পাঁচভুলট বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে আটক দুইজনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশিদ আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামি সাজু বদ্দি ও আলামিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এছাড়া অপরাধে সহযোগিতার দায়ে অপর আসামি মেহেদী হাসানকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে আদালত থেকে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।