লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামে ‘অপহরণের’ ১২ দিন পর অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার দু’জন হলেন, আড়িয়ারা গ্রামের রেজাউল শেখের ছেলে হৃদয় শেখ (২৫) ও আমডাঙ্গা গ্রামের আলতাব মোল্লার ছেলে মোনায়েম মোল্যা (৪৭)।
গত ২৩ মে শনিবার মোনায়েম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওইদিন দিবাগত রাতে প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় শেখকে গ্রেপ্তার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ।
‘অপহৃত’ ওই কিশোরীর মা বিধবা সোনিয়া বেগম দাবি করেন, গত ১২ মে সকাল ৭টার দিকে তার মেয়ে মরিয়ম তাসনিম প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তার সন্ধান না পেয়ে পরের দিন ১৩ মে লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, একই গ্রামের রেজাউল শেখের ছেলে হৃদয় শেখ, মৃত হাবিবুর শেখের ছেলে রেজাউল শেখ, রেজাউল শেখের স্ত্রী চায়না বেগম, পার-আমডাঙ্গা গ্রামের মুফি মোল্লার ছেলে রহিম মোল্লা, চর আড়িয়াড়া গ্রামের গোলজার মৃধার ছেলে এরশাদ মৃধা ও আমডাঙ্গা গ্রামের আলতাফ মোল্লার ছেলে মোনায়েম মোল্যা পরস্পর যোগসাজসে মাইক্রোবাসে করে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোনিয়া বেগম বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে শনিবার লোহাগড়া থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, থানায় মামলা দায়ের করার পর মোনায়েম ও এরশাদ পরস্পর যোগসাজসে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করার নাম করে ওই কিশোরীর মা সোনিয়া বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগড়া থানার এসআই বিজন কুমার সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে থানার পাশ থেকে মোনায়েমকে আটক করে।
পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক শহরের আলা মুন্সির মোড় থেকে ঘটনার মূলহোতা হৃদয় শেখকে আটক করে। এ সময় অপহৃত কিশোরী মরিয়ম তাসনিমকে উদ্ধার করেন।
লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।