যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঝিনাইদহে জোড়া হত্যা মামলার বাদীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুন,২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন,২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ঝিনাইদহে জোড়া হত্যা মামলার বাদীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

ঝিনাইদহে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে একটি হত্যা মামলার বাদী কৃষক রফিকুল ইসলাম রফিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রফির মা লাইলী বেগম মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৩ জুন তার ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিকে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের ব্যানাকুড় মাঠ থেকে একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫৮ বিজিবির পক্ষ থেকে মামলায় জড়ানো হয়। লায়লা বেগমের দাবি 'আমার ছেলে রফি কোনো সন্ত্রাসী বা অস্ত্র ব্যবসায়ী নয়; তার অপরাধ সে একটি নির্মম জোড়া খুনের মামলার বাদী।'

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সীমান্তের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত অস্ত্রধারী তরিকুল ইসলাম আকালে বাহিনী তার আরেক সন্তান শামীম ও দেবর মন্টুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে। রফি ওই হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় আকালে ও কবীর তার দলবল দীর্ঘদিন ধরে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। আকালে বাহিনী নিজেদের বাঁচাতে এবং রফিকে পথ থেকে সরাতে বিজিবির কিছু সদস্যকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে এই 'অস্ত্র উদ্ধারের মিথ্যা নাটক' সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রফিকের মা লাইলী বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে রফি তার নিজের জমিতে গবাদিপশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। ঘাস কেটে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বিজিবির একটি টহল দল তার গতিরোধ করে। রফি সরল বিশ্বাসে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। বিজিবি সদস্যরা তার শরীর তল্লাশি করে অবৈধ কিছুই পাননি। কিন্তু এরপর তাকে জোরপূর্বক টেনে ঘাসক্ষেতের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর ঘাসক্ষেতের এক কোণ থেকে ভারতীয় পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু উদ্ধার দেখিয়ে সেটিকে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র হিসেবে দাবি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে অস্ত্রটি নাকি রফির শরীর তল্লাশি করে পাওয়া গেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জোড়া খুনের মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে এর আগেও রফিকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে আকালে বাহিনী। গত ২০২৫ সালের ১১ মে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে রফিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, যা সৌভাগ্যবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সন্ত্রাসী চক্রটি রফিকে শেষ করতে না পেরে এই সাজানো অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রফির বোন জেসমনি আরা, মেয়ে লাকি বেগম, জন আব্দুল আলীম, সোহরাব হোসেন, ইছাহাক সরদার, মহসিন আলী ও চঞ্চল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম দাবি করেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি সত্য এবং রফির কাছ থেকেই বিদেশি অস্ত্র পাওয়া গেছে। ফলে বিজিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য নয়।

উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে বিজিবি দাবি করে, উদ্ধার করা অস্ত্রটি রফির দেহ তল্লাশি করে পাওয়া যায়। অন্যদিকে গত ৩ জুন বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় অস্ত্রটি রফির নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)