স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আলোচিত মাহমুদা জামান ও তার দুই ভাই শামীম হোসেন ও মাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার হেদায়েত হোসেনের ছেলে মিরাজ হোসেন মঙ্গলবার (৯ জুন) এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য যশোরের সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি মাহমুদা বিভিন্ন সময় নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা, এনজিও'র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। তার সাথে মিরাজের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর মাহমুদা ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে মিরাজকে মোটা অংকের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং কয়েকটি ব্ল্যাংক (ফাঁকা) চেক প্রয়োজন বলে মাহমুদা জানান।
সরল বিশ্বাসে মিরাজ ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আসামিকে মোট তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিনিময়ে দুই মাসের মধ্যে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কোনো ঋণ করে দিতে পারেননি মাহমুদা। পরে টাকা ফেরত চাইলে আসামি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
১ মার্চ দুপুরে মিরাজের কর্মস্থল জেল রোডস্থ হেলাল বুক ডিপোতে আসামিরা উপস্থিত হন। এ সময় মিরাজ তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তাকে মারপিট করতে যান। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেবে না বলে হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে আসেন।
এর আগে যশোর ও মাগুরার বিভিন্ন ব্যক্তি মাহমুদার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের আলাদা আলাদা অভিযোগ আনেন। সেসময় মাহমুদা ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পরে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের দীপু খাতুন নামে একজন ভুক্তভোগী ইন্সুরেন্স করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৭ মার্চ তাকে যশোরে নিয়ে আসেন এবং বড়বাজার থেকে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই সময় মাহমুদা আটকের সংবাদ পেয়ে অন্তত অর্ধশত মানুষ (পাওনাদার বা প্রতারণার শিকার) কোতোয়ালি থানায় জড়ো হন। এবং তার প্রতারণার নানা কাহিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। ওই দিনই বারিনগর বানিয়ালী গ্রামের আব্দুস সোবহান নামে এক ভুক্তভোগী এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। এরপর ১০ ও ১১ মার্চ তার বিরুদ্ধে আদালতে নয়টি মামলা হয়। সব মামলা কোতোয়ালি থানায় রেকর্ড হয়। সেই থেকে মাহমুদা কারাগারে আটক আছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।