মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার দশ লাখ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রমসহ ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর নানা কর্মকাণ্ড।
কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তৈরি হয়েছে এই সংকট।
এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টাতেই চলে যাচ্ছে। আবার কখনো কয়েক ঘণ্টা ধরেও বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মাগুরা ওজোপাডিকোর আওতায় প্রায় ৪৩ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। ফলে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ দিয়েই চালাতে হচ্ছে পুরো বিতরণ ব্যবস্থা।
বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমছে কাজের গতি, বাড়ছে লোকসানের আশঙ্কা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন নানা কার্যক্রম।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাগুরা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম জানান, গ্রাহক সংখ্যা দুই লাখ ৭৮ হাজার। এসব গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৬ মেগাওয়াট।
ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের চাপ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ অফিসেও পড়ছেন ভোগান্তিতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
বিদ্যুৎ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যাংক ও বিভিন্ন অফিস-আদালতের মানুষ।