এম জুবায়ের মাহমুদ
, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মাদিয়া এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চরে হঠাৎ ধস দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর প্রায় আড়াইশ ফুট এলাকা দেবে যাওয়ায় ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের অন্তত দশটি গ্রামে।
বসতভিটা, ফসলি জমি ও মাছের ঘের হারানোর শঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা গ্রামগুলো হলো পশ্চিম দুর্গাবাটি, পূর্ব দুর্গাবাটি, মাদিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, বড়কুপট, ছোটকুপট, পশ্চিম পোড়াকাটলা, পূর্ব পোড়াকাটলা, ভামিয়া ও কলবাড়ির কিছু অংশ।
এলাকাবাসীর দাবি, অন্তত তিনশ পরিবারের মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত বুধবার ভোরে প্রথমে নদীর চরের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট এলাকা হঠাৎ দেবে যায়। এরপর শনিবার সকাল থেকে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রায় আড়াইশ ফুট এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। এতে নদীতীরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদিয়া এলাকার দুর্গাবাটি মন্দিরসংলগ্ন নদীর চরে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। জোয়ারের সময় নদীর স্রোত তীব্র হয়ে উঠলে মাটির বিশাল অংশ নিচের দিকে ধসে পড়ছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম আলী বলেন, এই অংশ দিয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে অন্তত আট থেকে দশটি গ্রাম প্লাবিত হবে। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি নোনা পানিতে তলিয়ে যাবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রফতান বলেন, দুর্গাবাটি মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় যেভাবে চর দেবে যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এখনই স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বিশাল এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী ও শ্যামনগর পওর শাখার কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত জিও বস্তা ডাম্পিং করা হচ্ছে, যাতে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।