রসনাবিলাস
বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
শহরের বাঁশপট্টি রোডে সান্ধ্যকালীন জমজমাট খাবারের আয়োজন, সবারই জানা। হরেকরকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন অনেক নারী। চটপটি, ফুচকা থেকে শুরু করে ছিটেরুটি হাঁসের মাংস, কিংবা কেক পেস্ট্রি অথবা পিঠা-পায়েস, কী মেলে না এখানে।
চিরচেনা সেইসব খাবারের ভীড়ে সোমবার বিকেলে এই সড়কের বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউটের গা ঘেঁষে তিনটি মেয়ে পসরা সাজিয়েছেন সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড- ইডলি নিয়ে।
জয়যাত্রা ফুড কর্নার নামে এই প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা জানায়, যশোরে এই প্রথম তারাই দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার ইডলি, সম্বার আর নারকেলের চাটনি নিয়ে এসেছেন।
জনপ্রিয় এই খাবারটি চেখে দেখার জন্যে সেখানে হাজির হন গৃহবধূ সেঁজুতি সুলতানা। মেয়েরা তার প্লেটে চারটি ইডলি, একপাশে সম্বার আরেক পাশে নারকেলের চাটনি দিয়েছে।
খাবারটি সম্বারে মিশিয়ে এরপর চাটনিতে চুবিয়ে মুখে পুরে বেশ তৃপ্তিভরা চোখে তাকালেন ভদ্রমহিলা। বেশ প্রশংসার দৃষ্টিতে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, বাহ্!
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ইডলি তৈরি হয় চাল, ডাল ইত্যাদি গুঁড়া দিয়ে। আর সম্বারে থাকে বিভিন্ন সবজি, ডাল ইত্যাদি এবং চাটনিতে নারকেল, বাদামসহ নানারকম পুষ্টিকর জিনিস। সাউথ ইন্ডিয়ান মানুষ সাধারণত এটি সকালের নাশতা হিসেবে খায়। সিনেমাতেও দেখেছি। যশোরে দেখে লোভ সামলাতে পারিনি।’
কলকাতার রাস্তায়ও বেশ জনপ্রিয় এই ইডলি। একদম সাদামাটা অথচ, পুষ্টির ভাণ্ডার ইডলি সেখানে কলাপাতায় পরিবেশন করা হয়। সাদা ইডলি কলাপাতার উপরে- দৃষ্টিতে বেশ স্নিগ্ধতা আনে। যদিও যশোরে এই মেয়েরা দিচ্ছেন স্টিলের প্লেটে, যেখানে তিনটি খাবারের আলাদা আলাদা চেম্বার রয়েছে।
‘জয়যাত্রা ফুড কর্নারের’ কর্মী প্রিয়া জানান, চেন্নাই, কর্ণাটক ছাড়িয়ে এখন গোটা ভারতে এই সকালের খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। এটি সহজপাচ্য বিধায় অনেকেই খান। ইডলি তৈরিতে চাল, মাশকলাই, মেথি ও চিড়া, সম্বারে বিভিন্ন প্রকারের সবজি, টমেটো, আলু, কারিপাতা, পুদিনা, ধনেপাতা, ৪-৫ রকমের ডালসহ বাইরে থেকে আনা ১৫ রকমের মসলা এবং চাটনিতে ব্যবহার করা হয়নারকেল, বাদাম, ছোলা, ডাল, পুদিনা, ধনেপাতা, কারিপাতা ইত্যাদি।
তিনি বলেন, ‘‘আমরাই যশোরে প্রথম এই ইডলি এনেছি। এক প্লেট ইডলির দাম একশ’ টাকা এবং হাফ হচ্ছে পঞ্চাশ টাকা। খুব শিগগিরই আমরা যশোরের মানুষের রসনায় নতুন নতুন খাবার সংযোজন করতে যাচ্ছি।’
দক্ষিণ ভারতের সকালের এই ঐতিহ্যবাহী পদ আজ সে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি গুগল-ডুডলে সেটি প্রকাশিতও হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে দক্ষিণ ভারতে এর প্রচলন শুরু হয়। চাল ও বিউলির ডালের মিশ্রণ ফার্মেন্টেশন করে তৈরি হয় এই খাবারটি। কোনও রকম ভাজা বা তেলে ডোবানো নয়, বরং স্টিমে রান্না হওয়ায় এটি অত্যন্ত হালকা ও সহজপাচ্য।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইডলির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও মিনারেলসের নিখুঁত সংমিশ্রণ। যেহেতু এটি ফার্মেন্টেড, তাই এতে প্রোবায়োটিক উপাদানও থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত ইডলি খেলে গ্যাস, বদহজম, এমনকী ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।