যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হিজবুল্লাহর নতুন প্রযুক্তির সস্তা ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরাইল

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ৬ মে,২০২৬, ১০:১৭ পিএম
হিজবুল্লাহর নতুন প্রযুক্তির সস্তা ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরাইল

ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে যুদ্ধের চিত্র বদলে দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তির ফাইবার-অপটিক ড্রোন। যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর শুধু যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন নয়, বরং শোনা যাচ্ছে ছোট, কম খরচের কিন্তু নির্ভুল এই ড্রোনের গুঞ্জন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ড্রোন ইসরাইলের নিম্ন-উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা উন্মোচন করেছে।

হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলো খুব ব্যয়বহুল নয়, তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এগুলো জ্যাম করা কঠিন হওয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর জন্য নতুন কৌশলগত চাপ তৈরি করছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযানে এসব ড্রোন ইতোমধ্যে কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা, মানসিক চাপ এবং অপারেশনাল ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিভাবে কাজ করে এ ড্রোন: ফাইবার-অপটিক ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই ড্রোনগুলো অপারেটরের সাথে একটি অত্যন্ত পাতলা ফাইবার-অপটিক ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত থাকে, যা ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এজন্য জ্যামিং বা বিকল করা অসম্ভব। যেহেতু এগুলো কোনো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (আরএফ) বা জিপিএস সিগন্যাল ব্যবহার করে না; তাই ইসরাইলের উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি বা রাডার একে শনাক্ত বা প্রতিহত করতে পারে না।

কম খরচ ও সহজ উৎপাদন। প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার খরচ হয়। এগুলো স্থানীয়ভাবে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ও সাধারণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে।

ড্রোনটি অপারেটরকে লক্ষ্যবস্তুর হাই-রেজোলিউশন ভিডিও পাঠাতে পারে, ফলে অপারেটর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান বা সেনা অবস্থানে আঘাত হানতে পারে। হালকা ফাইবারগ্লাস বডি এবং অনেক নিচ দিয়ে ওড়ার কারণে রাডারে এগুলো ধরা পড়ে না। ইসরাইলের অত্যাধুনিক ট্রফি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা রাডার অনেক ক্ষেত্রেই এই ড্রোনগুলোকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এই ড্রোন যুদ্ধ নতুন কোনো ধারণা নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই মানববিহীন হামলার ধারণা চালু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন যুদ্ধে এর ব্যবহার আরো বিস্তৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যেও এর নজির রয়েছে। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে মিসাইলে তার-নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল।

তবে বর্তমানে যে পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে, তা হলো বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়। বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশ, লাইভ ভিডিও, ফার্স্ট পারসন ভিউ (এফপিভি) নিয়ন্ত্রণ এবং ফাইবার-অপটিক সংযোগ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন ধরনের ‘তথ্য নির্ভর যুদ্ধকৌশল’, যেখানে হামলা, নজরদারি ও প্রচারণা একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

হিজবুল্লাহর ড্রোন ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০৬ সালের আগেও তারা ইসরাইলি নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ইরান-উৎপাদিত ড্রোন ব্যবহার শুরু করে এবং এখন ফাইবার-অপটিক এফপিভি ড্রোনে মনোযোগ দিয়েছে।

এপ্রিল মাসের দ্বিতীয়ার্ধে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর চালানো ২২টি হামলার মধ্যে ১৬টিতে এফপিভি ড্রোন ব্যবহারের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। একইসঙ্গে তারা নিজস্ব ড্রোন উৎপাদনের ভিডিওও প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি করা, যা ইসরাইলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিচে কার্যকরভাবে কাজ করবে।

দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য গ্রাম, উপত্যকা ও পাহাড়ি এলাকা ড্রোন ব্যবহারের জন্য উপযোগী। লিতানি নদী ইসরাইল সীমান্ত থেকে খুব বেশি দূরে নয়, ফলে স্বল্প দূরত্বের ড্রোন সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহর জন্য বড় আকারে ধ্বংস সাধন করাই মূল লক্ষ্য নয়। বরং তারা চায় ইসরাইল বাহিনীর চলাচল ধীর করে দেওয়া, ঝুঁকি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা অঞ্চলকে অনিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করা।

তবে ড্রোনকে যুদ্ধ জয়ের একমাত্র উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সফলতা আসে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সমন্বয় ও কৌশলের মাধ্যমে। ড্রোনের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সমন্বিত সামরিক কাঠামো।

এছাড়া ফাইবার-অপটিক ড্রোনেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে; এর কার্যপরিসর কম, তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং পরিচালনায় প্রশিক্ষিত অপারেটরের প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরাইল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একক কোনো সমাধানের ওপর নির্ভর করবে না; বরং সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আগাম শনাক্তকরণ, উন্নত প্রতিরক্ষা স্তর, সুরক্ষিত যানবাহন, ছদ্মবেশ এবং দ্রুত কৌশলগত অভিযোজন।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায় হিজবুল্লাহ কি এই ড্রোন হামলাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে রূপ দিতে পারবে? তারা কি সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় বজায় রাখতে সক্ষম হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন শুধু আকাশের উচ্চতায় সীমাবদ্ধ নয়; মাটির কাছাকাছি কয়েক মিটার উচ্চতাতেও চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। ইসরাইল আকাশে আধিপত্য বজায় রাখলেও, নিম্ন আকাশসীমায় হিজবুল্লাহর চ্যালেঞ্জ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ তাই নির্ধারিত হবে শুধু শক্তিশালী অস্ত্রে নয়, বরং কম খরচে নির্ভুল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)