সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সরকারি কোষাগারের অর্থ ও সরকারি লোগো ব্যবহার করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রশাসকদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা দায়িত্বে বহাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দুই সিটির প্রশাসক সরকারি লোগো ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে মেয়র পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল।’’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘প্রশাসক পদে বসে তারা মেয়র নির্বাচন করতে পারেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে আগে পদত্যাগ করতে হবে। অথচ তারা সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে ভোট চাইছেন।’’
নগর ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এবং মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও পশুর হাট বসানো হয়েছে, যা নগর পরিকল্পনা ও জনস্বার্থের পরিপন্থি।’’ এসব অব্যবস্থাপনা প্রশাসকদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া নিয়ে সরকারের একটি পক্ষ বিরোধিতা করছে, আরেক উপদেষ্টা বলছেন, শর্ত মেনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে। আমি মনে করি, সরকার নিজেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ সরকারে আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।’’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সরকারি পদ ও সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী নির্বাচনি সুবিধা নিতে পারেন না।’’ নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শফিকুল ইসলাম খান। ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। তারা নির্বাচন করতে পারেন এরকম গুঞ্জন রয়েছে।