স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর জেলা যুবদলের নেতারা বলেছেন, ‘একটি কুচক্রী মহল দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য শীর্ষ নেতাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অখ্যাত সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের নাম জড়িয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অপতথ্য প্রচার করছে’।
বুধবার (৬ মে) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জেলা যুবদল সকল প্রকার অত্যাচার, হামলা, মামলা মোকাবেলা করে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের পাশে ছিল ।
ফ্যাসিস্টের পতনের পর যশোর জেলা যুবদল পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ ক্ষেত্রে আহ্বায়ক হিসেবে এম তমাল আহমেদকে ও সদস্য সচিব হিসেবে আমি আনসারুল হক রানাকে দায়িত্ব দিয়ে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছে।
আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। এবং তা ধরে রাখতে অব্যাহতভাবে কাজ করছি।
কিন্তু একটি কুচক্রীমহল যুবদলের ঐক্য বিনষ্টের মাধ্যমে পুরো জেলা বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।’
তিনি জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এষ্কেন্দার আলী জনির উদাহারণ টেনে বলেন, ‘সম্প্রতি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ নামে একটি অখ্যাত গণমাধ্যমে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িতসহ গর্হিত নানা কাল্পনিক তথ্য সম্বলিত খবর প্রচার করিয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময় সামাজিক গণমাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ের সাথে আমি বা যুবদলের কোন পর্যায়ের কোন নেতাকর্মী জড়িত নই।’
রানা বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে স্বক্রিয় থাকার কারণে দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা গুপ্ত সংগঠনের কর্মী ও নীতিবিবর্জিত পূর্বেই বহিষ্কৃত কতিপয় নেতাকর্মী ও তাদের দোসর এবং ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ঘরণার কিছু পত্রিকা আন্দোলন ও রাজনৈতিক সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অব্যাহতভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টপরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে চালানো ওইসব অসত্য ঘটনা ইতিমধ্যে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আপনারাও তদন্ত করলে এর সত্যতা পাবেন।
তিনি বলেন, ‘যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এই ধরনের বিবেকবিবর্জিত ঘটনার সাথে আমি বা আমরা যুক্ত হতে পারি না। আমরা কখনো যুবদলের নাম ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবানও হইনি।
বরং আমি ও আমার সহকর্মীবৃন্দ দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করার কারণে পারিবারিকভাবেও নিগৃহীত। ওইসব মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের পরে সামাজিক ও মানসিকভাবে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দলের নিবেদিত কর্মীরাও হতাশাগ্রস্ত।’
আনসারুল হক রানা বলেন, দীর্ঘদিন দলের বিরুদ্ধে ওই সমস্ত কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যা বিগত নির্বাচনেও এই অঞ্চলে প্রভাব ফেলেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা শোকজ করেছিলেন। সশরীর সেখানে গিয়ে জবাব দেওয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটি সঠিকভাবে তদন্ত করে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।’
এছাড়া মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল এবং যশোরে শার্শা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সহিদুল ইসলামের নাম জড়িয়েও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন বাবু, অধ্যাপক আমিনুর রহমান মধু, আরিফুল ইসলাম, নগর যুবদলের সদস্য সচিব শেখ রবিউল ইসলাম রবি এবং সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রায়হান তুহিন।