২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই মধ্যরাত ১টায় মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। আর এই লড়াই আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে বেশি বিশেষ।
দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্ব ফুটবলের শক্তিধর দলগুলোর বিপক্ষে খেললেও, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি মেসির। তাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমবার থ্রি লায়ন্সদের মুখোমুখি হওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সেমিফাইনালের আগে মেসি বলেন, ‘এটা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ একটি ম্যাচ। প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি, শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নয়। তারা খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ অনুভূতি।’
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। ওই ম্যাচে মেসির কর্নার থেকেই দলের প্রথম গোলের সূচনা হয়। পরে জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পাননি মেসি। আগের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর এটিই ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোলশূন্য ম্যাচ। তবুও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতায় দলের অন্যতম ভরসা হয়ে আছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
নকআউট পর্বে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় দলটি। টানা কঠিন ম্যাচের পর ক্লান্তির কথা স্বীকার করলেও সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মেসি।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডও দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। ফলে দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপে ২০০২ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই দ্বৈরথে জয়ী দলই নিশ্চিত করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।