কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রায় পরিবারের সদস্যরা মেলায় ঘুরতে যাওয়ার সুযোগে এক ব্যবসায়ীর ফাঁকা বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চোরেরা নগদ ১৭ লাখ টাকা ও আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর কয়রা গ্রামের বাংলালিংকের উপজেলা ডিস্ট্রিবিউটর মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী রিমা খাতুন, তাদের তিন মেয়ে, শাশুড়ি ও ননদরা মিলে উত্তর বেদকাশীর কাছারিবাড়িতে আয়োজিত বৃক্ষ মেলায় ঘুরতে যান। এ সময় মাসুম বিল্লাহ বাড়িতেই ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মেলায় যাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনিও প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে চলে যান।
পরিবারের সদস্যরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, ওয়ারড্রোবের দরজা খোলা। ভেতরে থাকা টাকার ব্যাগ ও স্বর্ণালংকারের প্যাকেট মেঝেতে পড়ে আছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ব্যবসায়ীর স্ত্রী ভুক্তভোগী রিমা খাতুন বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে আমি আমার তিন মেয়ে, শাশুড়ি ও ননদদের নিয়ে কাছারিবাড়ির বৃক্ষ মেলায় যাই। আমার স্বামী তখন বাড়িতে ছিলেন। আমি যাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনিও বাইরে চলে যান বলে ফোনে জানান। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখি, ঘরের ওয়ারড্রোব খোলা। গহনার প্যাকেট ও টাকার ব্যাগ পড়ে আছে। তখন বুঝতে পারি, বাড়িতে চুরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ব্যবসার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু শুক্রবার হওয়ায় টাকা ব্যাংকে পাঠাতে না পেরে বাসায় রেখে দিয়েছিলাম। সেই সুযোগেই চুরির ঘটনা ঘটেছে।’
পরিবারের দাবি, বাড়ির পেছনের দিকে রান্নাঘরের একটি ছোট ফাঁকা জায়গা দিয়ে চোরেরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে চুরি করেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, চুরির ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।