লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়ায় সালিশে পাওনা ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের চর সারুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ছয়জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাশেদ নামে একজনকে আটক রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে চর সারুলিয়া গ্রামের মশিয়ার খান পক্ষের মুন্না মোল্লা একই গ্রামের জামাল খান পক্ষের জামশেদ শেখের স্ত্রী লিজাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক বসে। সালিশে মুন্না মোল্লাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে তিনি এক লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি।
ওই বাকি টাকা পরিশোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে চর সারুলিয়া গ্রামে আবারও সালিশ-বৈঠক বসে। সালিশের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় জামাল খান পক্ষের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে টুটুল (৩৫) ও কামাল (৪৫) এবং মৃত আলিম শেখের ছেলে তরিকুল শেখ (৪৮) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মশিয়ার খান পক্ষের মৃত কলমদার খানের ছেলে মশিয়ার খান (৫৫), সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩০), খেলাফতের ছেলে বিপুল (৩০), সিরাজুর ওরফে সিরা খাঁর ছেলে ফেরদৌস (৩৪) এবং মৃত আবুল মোল্লার ছেলে মধু মোল্লাসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর লোহাগড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের সাতজনকে আটক করা হয়। রাতে ছয়জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাশেদ নামে একজনকে আটক রাখা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সালিশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।