স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
চৌগাছার সাবেক কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহিনুর রহমান শাহিন হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এ মামলার অপর সাত আসামির অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন চৌগাছা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালিমুল হক।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো হুদা চৌগাছা গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম কালু, ইসরাইল হোসেনের ছেলে টিপু, চাঁদপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম ফিকির ও কুটিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নিহত শাহিনুর রহমান চৌগাছা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং উপজেলার কারিগরপাড়া গ্রামের মৃত এনায়েত আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শাহিন ঢাকায় চলে যান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে চুল কাটার উদ্দেশ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন। ফেরার পথে চৌগাছার ছুটিপুর বাসস্ট্যান্ড কুটিপাড়া মোড়ে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা পিছন থেকে তার মাথায় এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত শাহিনুরকে প্রথমে চৌগাছা, পরে যশোর হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার মুক্তা ১১ জনের নাম উল্লেখ করে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই শাহিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্ত সূত্র দাবি করেছে।
তদন্ত শেষে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাইফুল ইসলাম, সালাউদ্দিন, হাসিবুল, জালাল উদ্দিন, মাফী, ফারুক হোসেন ও স্বপনের অব্যাহতি চেয়ে চার্জশিটে আবেদন করা হয়েছে।