যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বন্ধুর সাথে স্ত্রীর বিয়ে, ১২ দিন পর যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আনোয়ার হোসেন

, মণিরামপুর

প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
বন্ধুর সাথে স্ত্রীর বিয়ে, ১২ দিন পর যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

যশোরের মণিরামপুরে বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দেওয়ার ১২ দিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিথুন ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রী সাথীর সঙ্গে সুমন নামে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মিথুন নিজে উপস্থিত থেকে তাদের বিয়ে দেন।

এরপর পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। স্বজনদের দাবি, সাথী ও সুমনের কারণে মিথুনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

নিহতের চাচা এনায়েত হোসেন বলেন, `আব্দুল্লাহর স্ত্রী সাথী ১৫-২০ দিন আগে সুমন নামে এক যুবককে বিয়ে করেন। এরপর সুমনের পরামর্শে সাথী তার সাবেক স্বামী আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে আমাদের ধারণা। আমরা সুমন ও সাথীর বিচার চাই।’

সোমবার সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণশ্রমিক আব্দুল্লাহ প্রায় দশ বছর আগে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের সাথীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। সন্তানদের বয়স ছয় ও চার বছর।

আব্দুল্লাহর বন্ধু ও প্রতিবেশী সুমনের সঙ্গে তার ছোটবেলা থেকে পরিচয়। সেই সূত্রে সুমনের সঙ্গে সাথীরও পরিচয় হয়। প্রায় চার বছর আগে সুমন মালয়েশিয়ায় যান। পরে দেশে এসে কয়েক দিন থাকার পর তিন মাস আগে আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের সঙ্গে সাথীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জানতে পারেন আব্দুল্লাহ। পরে স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে একটি কাজী অফিসে নিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন।

নিহতের মা রওশনারা বলেন, ‘এসব কিছু আমরা আগে জানতে পারিনি। আমার ছেলেকে তার স্ত্রী মানসিকভাবে চাপ দিত। রোববার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর সাথী এসে জানায়, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে পরে বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

এক প্রতিবেশী জানান, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তার বাড়িতে ছুটে যান। ওই সময় সাথী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দরজা খুলে তাকে বাইরে আনা হয়।

আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল্লি চিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন বলেন, ‘‘আব্দুল্লাহ আমার ছোটবেলার বন্ধু। তিন দিন আগে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তার মন খারাপ ছিল। একটি নম্বরে ফোন করে তাকে কান্নাকাটি করতে ও ক্ষমা চাইতে দেখেছিলাম। কারণ জানতে চাইলে সে বলেছিল, ‘বন্ধু, আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। আমি আমার স্ত্রীকে নিজে উপস্থিত থেকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটির নাম সুমন। সম্পর্কে সে আমার চাচাতো ভাই।’’

মুবাসসের আরও বলেন, ‘আমি কারণ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ বলেছিল, তাকে বাসা থেকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সাথী তাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করেছে। দুই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সে এ কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘‘ওকে বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে ক্ষমা চাইতে দেখেছি। সে বলছিল, ‘আমি বাঁচবো না।’’

অভিযোগের বিষয়ে সাথী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে আমার স্বামী সুমনকে মোবাইল ফোনে কল করে বলে, ‘তুই আমার একটা কথা রাখ। আমার স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নে।’ সুমন প্রথমে রাজি ছিল না। পরে আমার স্বামী চাপ দিয়ে তাকে রাজি করায়।’’

সাথী বলেন, ‘পরে আব্দুল্লাহ আমাকে শরীর ছুঁয়ে শপথ করিয়ে সুমনকে বিয়ে করতে রাজি করায়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এসব কথা হয়। আমি রাজি ছিলাম না। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে আমার বিয়ে দেয়। আমার স্বামী ওই কাগজে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করে।’

সাথীর ভাষ্য, রোববার রাতে এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করেন বলে তার দাবি।

সুমন বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন বলেন, ‘আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আব্দুল্লাহ ও সুমনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।’

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও বলেন, ‘ওই যুবকের স্ত্রীর আরেকটি বিয়ের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পরিবার চাইলে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা হতে পারে। তবে নিহতের পরিবার এ বিষয়ে কোনো এজাহার দেয়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)