যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

লালন আখড়াবাড়িতে টাইম বোমা, সাধুদের ক্ষোভ-আতঙ্ক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ অক্টোবর,২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১৯ অক্টোবর,২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
লালন আখড়াবাড়িতে টাইম বোমা, সাধুদের ক্ষোভ-আতঙ্ক

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে লালন আখড়াবাড়ি থেকে একটি টাইমবোমা ও দুই বোতল পেট্রোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমারখালী থানা পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) একটি বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

এদিকে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ভক্ত ও সাধুদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার রাত থেকেই মাজারের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আতঙ্কিত হয়ে অনেক সাধু-গুরু রাতেই আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, রাতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত অবস্থায় এক সাধু এসে ককটেলসদৃশ একটি বস্তু পড়ে থাকার তথ্য দেন।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল টেপ দিয়ে জড়ানো একটি বোমাসদৃশ বস্তু, দুই লিটার পেট্রোল ও দুটি সার্কিটসহ একটি সাদা রঙের ব্যাগ উদ্ধার করে।

উপস্থিত মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত সবাইকে আখড়াবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল টিম সোমবার সকাল ৭টায় এসে বস্তুটিকে 'টাইম বোমা' হিসেবে শনাক্ত করে এবং সকাল ৮টায় তা নিষ্ক্রিয় করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওসি।

তবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং সাধুদের প্রতি আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন আখড়াবাড়িতে আসা ভক্তরা। বোমাসদৃশ বস্তুটির খবর প্রথম দেওয়া গোলাম সরোয়ার অভিযোগ করেন, পুলিশকে একাধিকবার জানানোর পরও তারা বিষয়টিকে প্রথমে গুরুত্ব দেয়নি। তিনবার গিয়ে বলার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

কল্পনা খাতুন নামে এক লালন অনুসারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাজার এলাকায় কারা, কেন বোমা রাখলো এবং এখানে নিরাপত্তার নামে পুলিশ কী ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গভীর রাতে সাধুদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেওয়াকে তাদের জন্য চরম অপমানজনক ও এক ধরনের ‘অত্যাচার’ বলে দাবি করেন ক্ষুব্ধ সাধুরা। তাদের অভিযোগ, সাধুদের ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা হতে পারে।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মেলা ও আখড়াবাড়ির নিরাপত্তায় ৮৭২ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন এবং পুরো এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে টাইম বোমা মাজারের ভেতরে রাখা সম্ভব হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের মাঝে নানামুখী প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)