খুলনা অফিস
খুলনার কৈয়া বাজারে নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আহাদুজ্জামান (২৮) এর ওপর হামলার ছয় দিন পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ডুমুরিয়া এবং হরিণটানা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল (প্লেস অব অকারেন্স) একে অপরের থানা এলাকায় বলে দাবি করছে। আসামিদের ইন্ধনে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদের হয়রানি করছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা সৈয়দ কামরুজ্জামান।
সন্ত্রাসী হামলায় আহত খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র আহাদের বাবা সৈয়দ কামরুজ্জামান জানান,১০ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার ছেলে কৈয়া বাজার জামানের করাতকলের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। তারা আহাদকে মারতে মারতে কৈয়া সেতুর পশ্চিম পাশে নিয়ে যায়।
আহাদ জ্ঞান হারালে তাকে পূর্ব জিলেরডাঙ্গা ওয়াপদার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সন্ত্রাসী হামলায় আহাদুজ্জামানের দুই হাতের দুটি আঙুল ভেঙে গেছে। রড এবং হাতুড়ির আঘাতে জখম মাথায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহাদ এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আহাদুজ্জামান জানান, তিনি কৈয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হারুন সরদার, মোতাহার মোল্যা, যুবলীগ নেতা তরিকুল মেম্বর, জনি বিশ্বাস, নেছার বিশ্বাস ও ফাহিম বিশ্বাস তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ফাহিম বিশ্বাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন বিকেলে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেনের ভাষ্য, ‘ঘটনাস্থল হরিণটানা থানা এলাকায়। যে কারণে এ ঘটনায় ওই থানায় মামলা দায়ের হবে। আপনি সেখানে খোঁজ নেন।’
হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল বাশার বলেন, ‘আহাদের ওপর হামলার ঘটনাস্থল ডুমুরিয়া থানা এলাকায়। এটি আমি ডকুমেন্টারি ভিকটিমের বাবাকে দিয়েছি। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় মামলা হবে। আমার এলাকায় হলে আমি মামলা নিয়ে নিতাম।’