যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করলেন বিএনপি নেতারা

খুলনা অফিস

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে,২০২৬, ১১:১৯ পিএম
ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করলেন বিএনপি নেতারা

খুলনায় ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে ফের র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের দুজনকে র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবন-সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় পানখালী গ্রামের জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার নামে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার মাছ চাষ করে আসছেন।

সম্প্রতি তাদের সঙ্গে খোনা এলাকার মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীদের ওই মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন।

এদিকে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আব্দুল্লাহর পক্ষের লোকজন মাছ ধরার সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বাায়ক খোনা এলাকার বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ওই ঘেরে হামলা চালায়। এ সময় পানখালী গ্রামের জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাচ্চু ফকিরের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় র‌্যাব-৬-এর সদস্যরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চু ফকিরের সমর্থকরা দাকোপ উপজেলার চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকায় র‌্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন র‌্যাবের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে আটক মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বাায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানার নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রসায়ের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি ওই জমি জোর করে দখলে নিয়ে আব্দুল্লাহ ফকির ও রাশেদ কামালের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনা নিয়ে উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু খুলনা থেকে র‌্যাবের সদস্যরা এসে ওই মিছিল থেকে লোক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ খবর পেয়ে বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে র‌্যাবের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা তারা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাসার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ এর কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে সন্ধ্যার আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেছে। আমরা তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেছি।’

এদিকে যে আসামিদের র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাদের বিপক্ষে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. বাবলু সানা।

শনিবার দুপুর ২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাবলু সানা।

এতে তিনি বলেন, ‘গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসামি আলামিন শেখ ঘেরের পাড়ে গিয়ে কেয়ারটেকার মহিবুর বয়াতির পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। একই তারিখ রাত ১১টার দিকে আসামিরা আমাদের ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। আসামি পংকজ কবিরাজসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইন অমান্য করে মৎস্য ঘেরে জোরপূর্বক মাছ ধরে তারা।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)