স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার পুরন্দরপুর এলাকার বিএনপিকর্মী সৈয়দ রবিউল ইসলাম হিরার মৃত্যুর সাড়ে পাঁচ মাস পর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিহতের চাচা নুরুজ্জামান বাবলা প্রতিবশী স্বামী-স্ত্রীকে আসামি করে এ মামলা করেছেন।
আসামিরা হলেন নিহতের প্রতিবেশী রেজাউল ও তার স্ত্রী রেবেকা।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বিএনপিকর্মী হিরা ছাগলের ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী চাকরি করায় ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। হিরা ও তার মা থাকতেন নিজবাড়িতে। প্রতিবেশী রেজাউলের সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল হিরার। রেজাউল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় প্রায় সময় হিরাকে খুন-জখমের হুমকি দিতেন। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মা বোনের শ্বশুরবাড়ি যান। বাড়িতে হিরা একাই ছিলেন। ১৯ নভেম্বর সকালে গাছের ডাল কাটা নিয়ে আসামি রেজাউল ও তার স্ত্রীর সাথে হিরার বাকবিতন্ডা হয়। রাতে হিরাকে একা পেয়ে তারা ইট দিয়ে আঘাত করেন। এরমধ্যে হিরা দৌড়ে তার ঘরের মধ্যে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভোট চাইতে হিরার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে না পেয়ে টিনের দরজার ফাঁক দিয়ে মোবাইলের আলো দিয়ে দেখেন মেঝেতে পড়ে আছে। তখন তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙ্গে হিরার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার বাড়িতে যান। সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
হিরার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বুকে আঘাতের পরে ওই রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ রিপোর্ট পেয়ে নিহতের চাচা থানায় এই হত্যা মামলা করেছেন।