স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
‘কিছু হলে উনি যেভাবে উত্তেজিত হয়ে যান, উনার শরীরটা কিন্তু খারাপ। এতো উত্তেজনায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না, এ কারণেই আমি কিন্তু আতঙ্কিত।’
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের এক সদস্যকে ইঙ্গিত করে তিনি এসব বলেন।
যশোর-৫ আসনের নির্বাচিত ওই সদস্যকে তিনি ‘চাচা’ সম্বোধন করেন। অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে অমিত বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে জেলখানায় একইসঙ্গে থেকেছেন, একসঙ্গে রোজা রেখেছেন, ফজরের নামাজ আদায় করেছেন, ইফতার করেছেন।’
এরপরই ওই সদস্যের উত্তেজিত আচরণ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সারাদিন সংসদে অন্য সদস্যদের বক্তব্য শুনে আমি বিমোহিত। তাই রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে কিছু সুখস্মৃতি ও কষ্টের কথা তুলে ধরতে চাই।
তিনি জানান, তার জন্য দিনটি ছিল কষ্টের, কারণ আগের দিন তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।
তিনি বলেন, যশোর অঞ্চলের বহু মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা খুলনায় নেওয়ার পথে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে ২০০১ সালে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি আসার পরও তা চালু হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অমিত বলেন, ভবিষ্যতে যেন যশোর অঞ্চলের কোনো মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য পথে জীবন হারাতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তব্যে যশোর সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। ৫০ বছর পর তারই উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই খাল পুনর্খনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
একইসঙ্গে যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০ বছর আগে তার প্রয়াত পিতার আহ্বানে এ হাসপাতালের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, যশোর থেকে প্রধানমন্ত্রী সমগ্র দেশবাসীর জন্য একটি শুভ বার্তা দিয়েছেন। নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে প্রতিটি নারীর জন্য এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাবে।
সংসদে কৃতিত্ব নিয়ে চলা বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যের কৃতিত্ব বিএনপি এককভাবে দাবি করেনি। বরং দলের নেতা তারেক রহমান তা দেশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।