ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ২৯৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে সাজিদের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে সাজিদের বন্ধু উসামা বলেন, সাজিদের লাশ পুকুরে পাওয়া গেছে। আজ বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে কাল যে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া যাবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করতে হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।
‘আমাদের দাবি ছিল সাজিদের নামে হলের নামকরণ এবং তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সেই দাবিতে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হলেও কেন এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, আমরা তা জানতে চাই। যদি প্রশাসনের পক্ষে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আপনারা পদত্যাগ করুন,’ বলেন উসামা।
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের সাজিদ হত্যার বিচার করার ন্যূনতম সদিচ্ছা নেই। সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়ায় খুনিরা আরও সাহস পেয়েছে, যার সর্বশেষ ফলাফল রুনা ম্যাম হত্যাকাণ্ড। বড় বড় আয়োজনে প্রশাসন সাজিদের নাম নেয় না, সাজিদের নামে হলের নামকরণও থমকে আছে। আমাদের ধারণা, প্রশাসন ইবি থেকে সাজিদের স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে চায়।’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়ার জন্য এখনো সিআইডি দপ্তরে কোনো কার্যকর চিঠি দেওয়া হয়নি। অথচ আন্দোলন হলে বলা হয় এটি ‘মীমাংসিত ইস্যু।”
তিনি বলেন, সাজিদের বাবার রক্ত ও চোখের জলের হিসাব কি প্রশাসন দিয়েছে? সাজিদের নাম নিলেই তাদের গা জ্বলে এবং ক্যাম্পাস অস্থির হওয়ার দোহাই দেওয়া হয়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্যাম্পাসে একের পর এক অঘটন ঘটছে। আর কতদিন সময় লাগবে আপনাদের এই বিচার করতে? আপনাদের এই ঢিলেমির কারণে সামনে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে পদ ছেড়ে দিন।’
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ, হলের নামকরণ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।