যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই,২০২৬, ১২:৩০ এ এম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও দেখা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তারা আরো দুটি দাবি তুলেছে। সোমবার যারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়নি তাদের পরীক্ষা নেওয়া এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতা পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখা।

শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলেছেন দাবি করেও তারা প্রতিবাদ করেছেন।

রাজধানীর পরিস্থিতি

বিবিসির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে প্রথমে রাজধানী ঢাকা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ধানমন্ডি থেকে নিউ মার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সড়কেই গোল হয়ে বসে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশের আয়োজন করলে পরে এতে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে। দেড়টার দিকে ওই স্থান থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর প্রায় তিনটা পর্যন্ত তাদের সেখানে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১২টায় উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনেও সড়ক অবরোধ করে সেখানকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নে পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি এবং প্রশ্নপত্রের ভুল নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ডিসি, ইউএনও ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে ‘বৃষ্টি হবে না’ এমন তথ্য পাওয়ার পরে সোমবারের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদিন সারাদেশে কেবল কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই বন্যার পানি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

‘সারা বাংলাদেশের ডিসিদের সাথে কথা বলেছি এবং ইউএনওদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে যে, কোথাও কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। একটিই শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজে ঘটেছে,’ বলেন তিনি।

এদিকে, সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে রাতেই এক গণবিজ্ঞপ্তি দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে শনিবারই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ই জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

পরীক্ষার্থীদের যেসব দাবি

সোমবার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।

কোনো কোনো জায়গায় পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্নজনকে পোস্ট করতে দেখা যায় সামাজিক মাধ্যমে।

এরপরই মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক পয়েন্টে বিক্ষোভ দেখা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সরকারি বাংলা কলেজ, আইডিয়েল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সিটি কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

সকালে অবস্থান নিয়ে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভের কথা জানান এবং তাদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।
একজন পরীক্ষার্থী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষামন্ত্রী, ওনার যে সাংগঠনিক দুর্বলতা। কুমিল্লা শহর পানিতে ডুবে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বোন কুমিল্লায় পরীক্ষা দিতে পারেনি। এর ওপরে পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্ন হইছে কড়া লেভেলের। পরীক্ষা স্থগিত করা দরকার ছিল এমন পরিস্থিতিতে। আমাদের মেইন দাবি বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হোক।’

আরেক শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘এখানে আমরা এসেছি মিলনের পদত্যাগের দাবিতে। কয়েকদিন ধরে দেশে যে দুর্বিসহ অবস্থা, এই অবস্থার মধ্যেও তিনি ইন্টার (এইচএসসি) পরীক্ষা চালু রেখেছেন। যেখানে সারা বাংলাদেশ ডুবে গিয়েছে, সেখানে তিনি পরীক্ষা চালু রেখেছেন। কালকে দেখেছি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী ড্রেনে পড়ে গেছেন। আমাদের দফা এক, দাবি এক, তার পদত্যাগ চাই।’

একপর্যায়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির এই সমাবেশে পরীক্ষার্থীদের কিছু সংখ্যক অভিভাবককেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। একটি গণমাধ্যমে একজন অভিভাবক নিজেকে পরীক্ষার্থীর মা উল্লেখ করে তাদের দাবির সাথে শরিক হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘এই বিরূপ পরিস্থিতি, বিরূপ প্রকৃতি, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বলেছে, সমন্বিত প্রশ্নে পরীক্ষা হবে, সেটাও হুট করে নেওয়া হচ্ছে। খুব বেশি সময় আমাদের বাচ্চারা পায়নি। তারপরে যখন পরীক্ষা হচ্ছে তার কয়েকদিন আগেও বলেছে, যদি কোনো জায়গায়, কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হয় তাহলে সারা বাংলাদেশের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে, যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কথা বলেছে।’

তিনি দাবি করেন, সোমবারের পরীক্ষায় ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এই দায় রাষ্ট্রের।

প্রায় দুই ঘণ্টা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থানের পর সেখান থেকে উঠে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা টিএসসিগামী ওই সড়কেই অবস্থান নেন। সেখান থেকে দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন।

এদিকে, একই সময়ে উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাই স্কুল ও কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ এবং সানরাইজ কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
তবে, দুই জায়গাতেই অনেককে আইডি কার্ড ছাড়াই অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এ সময় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের খবর দিয়েছে গণমাধ্যম। এছাড়া বরিশালের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৯ হাজারের বেশি

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।

এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেটসহ নয়টি শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের সোমবারের পরীক্ষায় সারাদেশে ১৯ হাজার ৫৯২ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্যের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাব বিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট ১১ হাজার ৭২৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে অফিস ম্যানেজমেন্ট ও ব্যবসায় সংগঠন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন দুই হাজার ৬৯৩ পরীক্ষার্থী।
আর মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় পাঁচ হাজার ১৭০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী যা বলছেন

এদিকে, সারাদেশে মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের কথা তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি। একইসঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুইটি প্রশ্নে ভুল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সকলের সাথে আলোচনা করে ‘বৃষ্টি হবে না’ এমন তথ্য পাওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি জানান, সারা বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় একত্রে প্রায় ২৭০০ সেন্টারে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।

চট্টগ্রামে বন্যার খবর পাওয়ার পর এক এক জেলা করে পর্যায়ক্রমে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

‘আমরা লক্ষ্য করছিলাম বৃষ্টি হচ্ছিল এবং মনিটরিং করছিলাম। সেইসাথে মনিটরিং এর সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার বা এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার ও প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনও প্রত্যেকের সাথে কথা বলেছি। ওয়েদার ব্রডকাস্টিং এর জন্য তাদের সাথেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা বসে থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সকলেই বললো ওয়েদার ভালো হবে, সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি,’ বলেন তিনি।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে বলে দেখতে পান।

তিনি সংসদে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। পরে পরীক্ষার্থীদেরকে নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচ তলা ভবন নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী মি. মিলন জানান, সারা বাংলাদেশের ডিসি এবং ইউএনওরা তাকে শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজের ঘটনা ছাড়া কোথাও কোনো দুর্যোগ ঘটেনি বলে জানায়।
একইসঙ্গে, পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মডারেটরের ওপর দায় চাপান।

‘ফিজিক্সের ছয় ও সাত প্রশ্ন দুটি ভুল হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। আগের কোয়েশ্চেন মডারেটর কোয়েশ্চেন করেছিল। আপনি জানেন যে, কোয়েশ্চেন মডারেট করতে হলে এই প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে শুরু করতে হয়। আমরা এসে কোনো কোয়েশ্চেন তৈরি করতে পারিনি। বিগত গভর্নমেন্টের যে মডারেটর ছিল তারাই কোয়েশ্চেন করেছে,’ বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তবুও তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নে পুরো নম্বর দেওয়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী কেবল একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করলেও সোমবার দেশের অনেক জায়গায়ই পরীক্ষা কেন্দ্রে বন্যার পানি ছিল বলে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে।

একইসঙ্গে, এ ধরনের দুর্যোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ডিসি ও ইউএনওদের হাতে থাকে বলেও জানান মন্ত্রী।

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের সামনে চলে যান। শিক্ষার্থীদের দাবি, যতক্ষণ না তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এর আগে, বিকাল ৫টার সময় সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

গতকাল (১৩ জুলাই) অস্বস্তিকর পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আগামীকালের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্নপত্রের মানদণ্ডও অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে।

যশোর

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করার প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে যশোর শহরের বিভিন্ন কলেজের বিপুল সংখ্যক এইচএসসি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেন। একই সাথে তারা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক এবং শিক্ষাবান্ধব নীতির পরিপন্থি।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার দায় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে একটি পরীক্ষার সময়সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করে দেশের সকল শিক্ষার্থীকে চরমভাবে অপমান ও তিরস্কার করা হয়েছে।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। তা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সাতক্ষীরা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের রাজ্জাক পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই জায়গায় শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল, হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন।

তারা বলেন, অতিবর্ষণে পুরো দেশ ডুবে গেছে। এ অবস্থায় দেশের সব অঞ্চলে পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিৎ ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী তা না করে চট্টগ্রামসহ পাঁচটি জেলা বাদে ৫৯টি জেলায় পরীক্ষা নিচ্ছেন। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষা দিতে যেয়ে ভিজে গিয়ে জ্বর আসা, ড্রেনে পড়ে যাওয়াসহ পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন