স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর জেনারেল হাসপাতালে দালালচক্র নির্মূল করতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার বাসুদেব কুমার মালোর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে, আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় দালালরা।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দালালদের তৎপরতা বন্ধে এই তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দাদালরা হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলা বহির্বিভাগে অবস্থান নেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত করোনারি কেয়ার ইউনিটে পশ্চিম গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে দালালচক্রের ১৫/২০ জন দ্রুত পূর্ব গেট দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে, অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান চলাকালে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের ডা. মৌসুমী বিনতে মানিক এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডা. আ.ন.ম বজলুর রশিদ টুলু উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ‘ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেই সরাসরি তদন্ত কমিটি গঠন করা যায় না। তবে কোনো রোগীর স্বজন লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই তদন্ত কমিটি গঠন করবো। আপাতত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণভূমিতে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের কড়াকড়িতে দালালরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। আগে টিকিট কাউন্টারের সামনে তাদের আনাগোনা থাকলেও এখন তারা করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলা বহির্বিভাগে অবস্থান করে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক রাশেদ তার অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে তদ্বির ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাধারণ রোগী আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের পরিবেশ দালালমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখাতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দুপুরে অভিযান না চালিয়ে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করলে দালাল আটক করা সম্ভব। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত থাকলে কোনো দালাল ভয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।