অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা আনিসুর রহমান (৬৭) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নওয়াপাড়া মোকামের সব সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। লোড-আনলোডসহ স্থগিত রয়েছে নওয়াপাড়া নৌবন্ধরের সকল কার্যক্রম।
নিহত আনিসুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যবসায়িক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন তিনি।
সার সিমেন্ট ও কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ২টার দিকে নওয়াপাড়া রেলওয়ে দারুস সালাম জামে মসজিদের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতি।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সমিতির পৃষ্ঠপোষক নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মোড়ল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সরদার শরীফ হোসেন, সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি সরদার, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ জালাল হোসেন, সহ-সভাপতি ও বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান মশি, যুগ্ম সম্পাদক ও নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্যা এবং নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান।
মিছিল শেষে নূরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা আনিসুর রহমানকে যারা হত্যা করেছে তারা সকলে চিহ্নিত। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

এর আগে বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওয়াপাড়া বাজারে পীরবাড়ি মাদরাসাসংলগ্ন আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ী নেতা আনিসুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ব্যক্তিগত ম্যানেজার রেজাউল করিম মিষ্টি বলেন, ‘বুধবার মাগরিবের নামাজের পূর্বে আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে স্যারের সঙ্গে কথা বলছিলাম আমি। এ সময় গুয়াখোলা গ্রামের শাহ্ জোনায়েদের ছেলে শাহ্ মাহমুদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ যুবক স্যারকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য স্যারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান তিনি।’
অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।