যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আসামে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলো ৭৩ মুসলিমের বাড়ি, হাইকোর্টের প্রশ্ন

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:০৮ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:৩১ এ এম
আসামে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলো ৭৩ মুসলিমের বাড়ি, হাইকোর্টের প্রশ্ন

আসামের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি মুসলিম পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে নির্মিত এসব বাড়ি ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রাথমিকভাবে অবৈধ ও অননুমোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দেওয়ায় স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতিও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন ৭৩টি বাড়ি ভেঙে দেয়। এর মাত্র দুই দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কৃষিজমিতে নির্মিত বাড়ি সরিয়ে নিতে বলা হয়। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। প্রশাসনের নোটিশে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব বিধান এবং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২১ জন বাসিন্দা হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ, বাড়ি ভেঙে ফেলার আগে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য তুলে ধরা বা আপিল করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। মামলাটির শুনানি করেন বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়া।

শুনানিতে আদালত ২০১৫ সালের আসাম কৃষিজমি পুনঃশ্রেণীকরণ ও হস্তান্তর আইনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমিতে নিজেদের বসবাসের জন্য দুই তলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণে ডেপুটি কমিশনারের আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ভেঙে দেওয়া প্রতিটি বাড়ি ওই আইনের সব শর্ত পূরণ করেছিল কি না, সে বিষয়ে আদালত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

এ অবস্থায় ব্যক্তিগত জমিতে বাড়ি ভেঙে ফেলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশ দিয়ে বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে এমন পদক্ষেপ কেন নেওয়া হলো, সে বিষয়েও প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া নথিপত্র ও নির্দেশনা পর্যালোচনা করে এমন কোনো আসন্ন বিপদের পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি, যার কারণে ব্যক্তিগত জমিতে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল। বরং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলেও আদালত প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন।

আদালত এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে পৃথক হলফনামা দাখিলের সুযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙার কারণে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত হলফনামা দাখিলের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রশাসনের দাবি, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, জমিগুলো তাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। এই বিরোধের পাশাপাশি বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)