যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইরানে হামলার সময় নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর,২০২৬, ০২:২৩ এ এম
আপডেট : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর,২০২৬, ০২:২৩ এ এম
ইরানে হামলার সময় নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে সম্ভাব্য হামলার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করা হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা হতে পারে। এমনকি ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেও অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনের আগে হামলার সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলেও জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি করে তা উপস্থাপন করাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে এবং তিনি যেকোনো সময় সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। অন্যদিকে ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় ওয়াশিংটন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে; এখন সহজ অথবা কঠিন—দুটি পথের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, তিনি সেটিই করবেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প চিন্তাভাবনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করে।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ওই বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনায় ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটনের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে।

দ্বিতীয় এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা এখন জোরদার হয়েছে। তার মতে, নির্বাচনের আগে হামলার সম্ভাবনা খুব বেশি না হলেও তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

পর্দার আড়ালে তৎপরতা

এর মধ্যেই গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। টানা কয়েক সপ্তাহ তাদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, ইরান ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের পরই নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

এর আগে গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও কথা বলেন নেতানিয়াহু।

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও অংশ নেবে।

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান আগেভাগেই হামলা চালিয়ে বসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও বলেন, ইরান এরই মধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার মুখে পড়েছে। তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না দেশটি।

অন্যদিকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ইসরায়েলি নির্বাচনেও। ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন করে উত্তেজনা বাড়া, এমনকি কেবল টানটান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)