খুলনা অফিস
খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকলনবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধাঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও (বুধবার) একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে দলিল লেখক ও নকলনবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন, রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কীভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান 'স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে।' পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফারুক হোসেন বলেন, এরপর তারা বের হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও তাকে না পেয়ে অফিসে ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর তন্ময় কুমার মণ্ডল নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তিনি কোথায় গিয়েছিলেন বা কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তার সঙ্গে আর কথা হয়নি বলে জানান ফারুক হোসেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।
ওসি বলেন, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে ‘সঙ্গে করে’ নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।
ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।’
সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন ‘আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটা ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে।’
তিনি বলেন, প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। পরে দেখেন, ডকুমেন্ট দেখার জন্যই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে তাকে অফিসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।