মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
হঠাৎ ঝড় ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে কলা, শিম, লাউ, বরবটিসহ নানা ধরনের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্বরূপপুর ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ করেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ের তাণ্ডব ও শিলার আঘাতে মাঠের বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বাঁশ ও সুতার তৈরি শিম, লাউসহ বিভিন্ন সবজির মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। অনেক ক্ষেতের সবজি শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে দেখতে পান, রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তাদের আবাদ করা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে, আবার কোথাও কলার পাতাগুলো শিলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন সবজির মাচা ভেঙে পড়ে থাকায় ফলন নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত সবজিতে পচন ধরে আরও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহাগ হোসেন বলেন, রাতে হঠাৎ এমন শিলাবৃষ্টি হবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। সকালে মাঠে গিয়ে দেখি আমার প্রায় চারশ’ কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। ঋণের টাকা দিয়ে চাষ করা ফসল এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেল।
কৃষকরা জানান, অনেকেই ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে কলা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিশেষ করে স্বরূপপুর ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের কলা ও বিভিন্ন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এক রাতেই ফসলের এমন ক্ষয়ক্ষতিতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে এই দুর্যোগের ধাক্কা কিছুটা হলেও সামলে উঠতে পারবেন তারা।