পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় ইজিবাইক চালক ও স্ট্যান্ডের স্টার্টারকে মারধরের অভিযোগে পৌর বিএনপির দুই নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রুবেল সরদারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিতে যাওয়া ইজিবাইক চালকরা দলীয় পদক্ষেপের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে সোলাদানা-পাইকগাছা রুটে ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে সোলাদানা থেকে যাত্রী নিয়ে পাইকগাছা কোর্ট মোড় এলাকার ইজিবাইক স্ট্যান্ডে আসেন চালক প্রভাস। স্ট্যান্ডের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে স্ট্যান্ডের স্টার্টার রুবেল যাত্রী নামিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে এক যাত্রী তার ছেলে স্টার্টার রুবেল সরদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে রুবেল সরদার দলবল নিয়ে স্ট্যান্ডে এসে চালক প্রভাস, স্ট্যান্ডের স্টার্টারসহ কয়েকজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে সোলাদানা-পাইকগাছা রুটের ইজিবাইক চালকরা বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ওই রুটে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রুবেল সরদারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রুবেল সরদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তা আমলে নেননি। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা আলোচনা করেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজসহ নেতারা এতে অংশ নেন।
পরে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় ইজিবাইক চালকরা সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। এরপর সোলাদানা-পাইকগাছা রুটে ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তির অবসান ঘটে।