যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনছেন বিরোধীরা

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনছেন বিরোধীরা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে কংগ্রেস উদ্যোগ নিয়েছে এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দলগুলোও এতে একমত হয়েছে।

কংগ্রেসের সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটির খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা সংসদে জমা দেওয়া হতে পারে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। এই প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক একদিন পরই বিরোধীদের এই নতুন পদক্ষেপের খবর এল।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনসহ (এসআইআর) নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নতুন ভিত্তি হিসেবে এই আপত্তিগুলোকে সামনে এনেছে বিরোধী দলগুলো। তবে নির্বাচন কমিশন জোরালোভাবে দাবি করেছে, তাদের সিদ্ধান্তে কোনো বিভক্তি ছিল না এবং দুই কমিশনার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেননি।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক বছরে এসআইআর-সংক্রান্ত বিষয়সহ তাদের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই গৃহীত হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এটি বিরোধীদের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল রাজ্যসভার ৭৩ জন বিরোধী সংসদ সদস্য অসদাচরণের অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরাতে একটি নোটিশ জমা দিয়েছিলেন। ওই নোটিশে নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল কংগ্রেস। এর আগে গত ১২ মার্চও একই ধরনের চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা, তবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সেই নোটিশটি খারিজ করে দেন।

কংগ্রেস ও বিরোধী দলীয় সূত্রগুলোর মতে, সেই নোটিশটি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নতুন তথ্য ও অভিযোগগুলো যুক্ত করে এখন নতুন একটি নোটিশ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

গত এপ্রিলে দেওয়া সেই নোটিশে ৭৩ জন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে বিরোধী শিবিরের সূত্র জানিয়েছে, ওই স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সাতজন এরইমধ্যে পক্ষ পরিবর্তন করেছেন। তাই হাউসের বর্তমান গঠন এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

এর আগে মার্চ মাসেও বিরোধীরা উভয় কক্ষে সিইসিকে অপসারণের নোটিশ দিয়েছিল। তবে গত ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকার সেই নোটিশগুলো খারিজ করে দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণের প্রক্রিয়ার মতোই। এই প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদ সদস্যের প্রস্তাব প্রয়োজন হয়। প্রস্তাব গৃহীত হলে তা নিয়ে তদন্ত হয় এবং সবশেষে সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা নতুন করে এই রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী ১০ মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি রেকর্ড করেছিলেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন ভোটার সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফর্ম-৬ এ পরিবর্তন আনাসহ ভোটার তালিকা পরিচালনার নানা বিষয়ে এই আপত্তিগুলো জানানো হয়েছিল।

ফর্ম-৬ হলো ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীদের পূরণ করতে হয় এমন একটি সংবিধিবদ্ধ ফর্ম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার এই ফর্মে আনা পরিবর্তনগুলোকে ‘অবৈধ’ এবং ‘অনুমোদিত নয়’ বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অব ইলেকক্টরস রুলস সংশোধন না করে এই সংবিধিবদ্ধ ফর্মে কোনো পরিবর্তন আনা যায় না।

প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার আট দফা বিবৃতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ ও বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলো নির্বাচন কমিশন।

কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, এটি একটি বহুদলীয় সাংবিধানিক সংস্থা এবং লিখিত নোট, পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও অভ্যন্তরীণ তদারকি এর স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসিআই-এর সব পদক্ষেপ আইন এবং কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই নেওয়া হয়েছে।’

কমিশন আরও জানায়, তাদের জারি করা সব প্রাতিষ্ঠানিক আদেশ, সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নির্দেশ আইনগত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাদি এবং পদের মেয়াদ) আইন, ২০২৩-এর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়া তৈরির সময় সদস্যদের উত্থাপিত যেকোনো অপারেশনাল প্রশ্ন বা মতামত সাধারণ প্রশাসনিক অনুশীলনেরই অংশ।

কমিশন বলেছে, ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করার জন্যই কমিশনাররা এই পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন।’

সূত্র: এনডিটিভি

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)