সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মুসলিমা (৭) নামে এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে বাড়ির পাশে একটি সুপারিবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত মুসলিমা উপজেলার কচুড়িয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মুসলিমা বাড়ির পাশে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময়েও বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে একই এলাকার মোসলেম শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখের পানের বরজের উত্তর পাশে একটি সুপারি বাগানে খোঁজ করা হয়। সেখানে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখ অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। তার দাবি, চাঁদার টাকা না পেয়ে জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশে ফেলে রাখে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে তার বসতঘর পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫), তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমান শেখকে (১৯) আটক করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।