খুলনা অফিস
প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখার তিন কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬১ টাকা আত্মসাতের মামলায় দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে তাদের উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামির কেউ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াছিন আলী এসব তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নগরীর খান এ সবুর রোডের মেসার্স মিংহুয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও সাজেদা ওয়াহাব অ্যান্ড সন্সের স্বত্ত্বাধিকারী শেখ আবু রাশেদ। অপর দু’জন হলেন প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জহিরুল হক এবং সাবেক ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ কাজী রবিউল ইসলাম।
আদালত সূত্র জানায়, শেখ আবু রাশেদ এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংকে ঋণসীমার আবেদন করেন। তখন শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন সৈয়দ জহিরুল হক। তার সুপারিশে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাশেদের প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ শতাংশ মার্জিনে এক কোটি ২০ লাখ টাকার এলসি অনুমোদন করে।
পরে রাশেদ ভারত থেকে ১৪টি এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করেন। এসব পণ্যের মূল্য বাবদ দুই কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৭ টাকা ৯১ পয়সা পরিশোধ করা হয়। ২৭টি এলটিআর হিসাবের মাধ্যমে ২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এ অর্থ পরিশোধ করা হয়। রাশেদের আমদানি করা পণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে তিনি তা করেননি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিন আসামি যোগসাজসে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
২০১১ সালের ২৯ মে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে মামলা করেন। ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তিনি তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সোমবার রায় ঘোষণা করেন।