যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, কেজিপ্রতি খরচ ৭৮ টাকা

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট,২০২৬, ১১:৪১ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট,২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, কেজিপ্রতি খরচ ৭৮ টাকা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও সরবরাহ সংকটের কারণে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের প্রথম চালান দেশে প্রবেশ করে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

তবে কাঁচা মরিচ আমদানির উদ্যোগ শুরু হলেও শুল্ক, বন্দর ব্যয় ও কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা। ফলে প্রকৃত আমদানি ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রেতা দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও বন্দর আনুষ্ঠানিকতা শেষে চালানটি ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। চালানটির আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান শিমু শিপিং লাইন্স।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে, যা দ্রুতই বন্দরে প্রবেশ করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে এসব মরিচ আমদানি করা হচ্ছে।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা (কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা)। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। সে হিসাবে ঘোষিত মূল্য ও শুল্ক মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়ায় ৬৯ টাকা। এর সঙ্গে বন্দর, পরিবহন, কাস্টমস ও শ্রমিক মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে কেজিপ্রতি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা।

তবে আমদানিকারক শাহাজানের দাবি, সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কমবে। কিন্তু কাস্টমসের হয়রানি, পণ্য ছাড়করণে জটিলতা এবং বিভিন্ন খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রকৃত খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা লোকসানের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এদিকে সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকের দাবি করা ১৩৫ টাকা খরচের পরও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান কেজিপ্রতি ১৬৫ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক ধাপে মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে এই ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, কেবল আমদানির অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বন্দর খালাস সহজ করা, শুল্ক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর তদারকি জোরদার করলে দ্রুত আমদানির সুফল ভোগ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)