যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকা উপহার দিলেন জুলাইযোদ্ধা আজিজ

রূপক মুখার্জি

, লোহাগড়া (নড়াইল)

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই,২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই,২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকা উপহার দিলেন জুলাইযোদ্ধা আজিজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মাথায় গুলির ক্ষত ও শরীরে ৩৬টি স্প্লিন্টার চিহ্ন বহনকারী জুলাই আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা লোহাগড়া উপজেলার শেখ আজিজুর রহমান।

এ সময় তিনি তারই রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রামে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তে মাথায় আঘাত পান শেখ আজিজুর রহমান, তখন রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে জুলাইযোদ্ধা আজিজুরের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

সুজন মাহমুদ আরও জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের সংগ্রাম, কষ্ট ও আত্মত্যাগের কথা শোনেন। আজিজুর কীভাবে আহত হন, তার লেখাপড়া, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহনের সংগ্রাম এবং বর্তমান চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। আজিজুরের কঠোর জীবন সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানান এবং ব্যথিত হন।

প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকাটি উপহার দিয়ে আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। তিনি আমার কষ্টের কথা নিজে শুনেছেন এবং খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এই রক্তমাখা পতাকাটি তার হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা আমার বহুদিনের। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর রহমান। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি প্রিয় জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন। এতে পতাকাটি তার রক্তে রঞ্জিত হয়। রক্তভেজা শরীর নিয়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দু’দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান।

ত্যাগ ও বীরত্বের নজির স্থাপন করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টানা দু’বছর তিনি ‘জুলাইযোদ্ধার’ স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে জীবন সংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তাকে সিএনজি চালাতে হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)