এমপির গাড়ি ও গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ভাঙচুর
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মুফতি আমির হামজাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে জামায়াতের সাতজন ও গণঅধিকার পরিষদের তিনজন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের সময় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গাড়ির কাচ ভেঙে মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় এবং জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের নিজস্ব কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে এমপি আমির হামজার বাসার কাছে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
জানা যায়, সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেন আমির হামজা। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছয়রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখা। সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন।
সমাবেশের শেষদিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন আমির হামজা। তার গাড়ি সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে গাড়িতে থাকা তার সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
এরপর মাগরিবের নামাজ চলাকালে আমির হামজার বাসা থেকে তার সমর্থকেরা বেসবল ব্যাট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেট এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে সংঘবদ্ধ হামজা সমর্থকেরা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছয়রাস্তা মোড়ের হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, ‘আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ছয়রাস্তা মোড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম।
এ সময় আমির হামজার গাড়ি আসে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালান। পরে দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়।’
তৌকির আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় তিনি সহ গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, এমপি মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে খবর পাই, আমার বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে।
পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে আমার গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
লাঠি ও হকিস্টিক দিয়েও হামলা করা হয়।’
আমির হামজা বলেন, এ ঘটনায় তিনিসহ জামায়াতের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমপির বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।