ইবি প্রতিনিধি
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রত্যেক জেলায় সরকারের যে অব্যবহৃত জমি রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ঝিনাইদহ-ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-কুষ্টিয়া রেললাইন স্থাপনের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত 'কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই' সংক্রান্ত উন্নয়ন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব ও বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম, ঢাকার সভাপতি ড. খ ম কবিরুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, জিয়া পরিষদ, ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্ত্রী বলেন, ‘কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে সৌর বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে আমরা কৃষি বিপ্লব ঘটাতে চাই। প্রত্যেক জেলায় সরকারের অব্যবহৃত যে জমি আছে, আমরা সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব জমি ব্যবহার করে আমরা সৌর বিদ্যুৎ চালু করতে চাই। এক একর জমিতে যদি সৌর বিদ্যুৎ চালু করতে পারি তাহলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। একটা জেলায় যদি ২০ একর জমিতে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয় তাহলে আমাদের একদিকে সেচের জন্য যে ডিজেল খরচ হচ্ছে সেটি লাগবে না, অন্যদিকে বিদ্যুতের পেছনে যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেটিও আর লাগবে না। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি আমরা দৃশ্যমান অবস্থায় পাবো বলে আমরা বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের কারিগরি টিম এটি বলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। ইতিমধ্যেই পার্লামেন্টে বিদ্যুৎ সংকট, মধ্যপ্রাচ্য সংকট কীভাবে নিরসন করা যায় সেটার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতার উদ্যোগে দশ সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন এবং আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। আমরা সঠিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছি সে উদ্যোগের পথ ধরে হেঁটে যেতে চাই। হানাহানি, রক্তপাত থাকবেই। রাজনৈতিক বিরোধ আদর্শিকভাবে থাকবেই। এই মঞ্চের অনেকের সাথেই আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল নেই। কিন্তু আমাদের চিন্তার ঐক্য, ভাবনা এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে। এই উন্নয়নের ঐক্যকে ধারণ করেই আমরা একে অন্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাব। আমরা সঠিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছি সে উদ্যোগের পথ ধরে হেঁটে যেতে চাই।’
এসময় সরকারের মহাপরিকল্পনা, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।
এছাড়া, খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বেহাল অবস্থার সমাধান ও ঝিনাইদহ-ইবি-কুষ্টিয়া রেললাইন স্থাপনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার জুলাই শহীদ ইয়ামিনের নামে ইবিতে একটি আবাসিক হলের নামকরণের দাবি রাখেন তিনি।