সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সংগৃহীত
ছবি:
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। এরপর গত ৫০ বছরে দেশটি বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মসংস্থানের দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে অনেক বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ছুটিতে দেশে এসে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেক প্রবাসী।
ভিসা বাতিল হওয়া কয়েকজন প্রবাসী জানান, জুলাই থেকে তাদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে শুরু করে। এ বিষয়ে ই-মেইল, মোবাইল ফোনের খুদে বার্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ভিসা বাতিলের কারণে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরতে না পারলে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।
এক প্রবাসী বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। মামলা থাকলে আমি ওই দেশ থেকে বাংলাদেশে আসতে পারতাম না। সেখানে আমার দুটি ব্যবসা ও স্ত্রী রয়েছেন। এখন সেখানে থাকার কথা থাকলেও ভিসা বাতিল হওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। বিষয়টি সমাধানের আশায় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ঘুরছি, কিন্তু এখনো কোনো আশ্বাস পাইনি।
দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সংখ্যাটি ৪ হাজার ৮০০ তে উন্নীত হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জায়গা থেকে প্রথমত জানতে চেয়েছি, কেন এমনটি হয়েছে এবং এটি হওয়া উচিত নয়। যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, সেগুলো আবার যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শ্রমবাজার ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার অবকাশ রয়েছে বলে আমি মনে করি। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে বাংলাদেশের প্রতিযোগী কয়েকটি দেশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি সফর হলে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ওইসব দেশে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিভিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সহযোগিতা নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনের কোনো বিষয়ে কোনো বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো বক্তব্য বা স্ট্যাটাস দিলে, যা সংশ্লিষ্ট দেশ পছন্দ করছে না, সেটিও তাদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। তখন বাংলাদেশিদের সন্দেহের তালিকায় রাখা হতে পারে।
এদিকে যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে, তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।