২০১৪ সালে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৮২ নাম্বারে ছিল মরক্কো। তখন কেউ কল্পনাও করেনি, মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে এই দলটাই বিশ্বের ৬ নাম্বার হয়ে ফুটবল পরাশক্তিদের কাঁধে নিশ্বাস ফেলবে।
এটা কোনো রূপকথা নয়, এটা বিশ্বাসের গল্প। এটা সেই জাতির গল্প, যারা বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়েছে। যারা অপেক্ষা করেনি অলৌকিক কিছুর জন্য; নিজেরাই অলৌকিক ইতিহাস লিখেছে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তারা বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল। ইউরোপের একের পর এক পরাশক্তিকে থামিয়ে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। সেদিন তাদের স্বপ্ন থেমেছিল ফ্রান্সের দেয়ালে।
কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, সে কখনো কখনো অসমাপ্ত গল্পগুলো আবার লিখতে সুযোগ দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে টানা ৪২ ম্যাচ অপরাজিত মরক্কো সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আর ভাগ্যের কী নির্মম সুন্দর পরিহাস! আবারও সামনে সেই ফ্রান্স। আবারও সেই মঞ্চ। আবারও ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ।
ফ্রান্স-মরক্কো মুখোমুখী শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটা ২০২২ সালের অশ্রুর জবাব দেওয়ার রাত অথবা ফ্রান্সের ধারাবাহিকতা- যেকোনোটিই হতে পারে। ম্যাচে যদি মরক্কো জেতে, সেটি শুধু একটি সেমিফাইনালের টিকিট হবে না; সেটি হবে কোটি আফ্রিকান, আরব এবং স্বপ্ন দেখতে সাহস করা প্রতিটি মানুষের জয়। পৃথিবী আবারও দেখবে, ফুটবলে নাম নয়, হৃদয় জেতে; ইতিহাস নয়, ইতিহাস লেখার সাহস জেতে।
হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে শুধু একটি ফল লেখা থাকবে। কিন্তু সেই ফলের আড়ালে লেখা হবে হতে পারে আরও একটি গল্প: ‘ইতিহাস সাহসীদেরই মনে রাখে।’