যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পুরনো সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে দু’পারের মানুষ

আনোয়ার হোসেন

, মণিরামপুর (যশোর)

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট,২০২৬, ০১:০০ পিএম
পুরনো সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে দু’পারের মানুষ

যশোরের মণিরামপুরে দেবিদাসপুর ও পাতন ভায়া মাঝিয়ালি সংযোগ রাস্তার হরিহর নদের ওপর নির্মিত কংক্রিটের সেতুটি ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচের অংশে পিলারে ও উপরে রেলিংয়ের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে সেতুর মাঝের পিলারে। পাটাতন ফেটে একদিকে হেলে পড়েছে সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুই পাড়ে বাঁশ বেঁধে পারাপার বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভাঙা ব্রিজ পারাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নোটিশ ঝুলিয়েছেন। ফলে গত চারদিন ধরে বিপাকে পড়েছেন নদের দুইপারে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার ও স্কুল মাদরাসাগামী অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা বলছেন, ২০০৬ সালের দিকে হরিহর নদের ওপর এই সেতুটি নির্মিত হয়। গত শনিবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান, সেতু দেবে মাঝ বরাবর ফেটে গিয়ে হেলে পড়েছে। সেতুর নিচে খুঁটির পলেস্তারা ধসে রড বেরিয়ে গেছে। সেতুর সাথে সংযোগ রাস্তায় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুককে জানালে সোমবার তিনি চলাচল বন্ধ করে দুই পারে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। যেকোনো সময় রাস্তাসহ সেতু ভেঙে নিচে পড়ে যেতে পারে, এমনটি আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরকারিভাবে নদ খনন করা হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদে পানি বেড়ে স্রোত দেখা দেয়। ফলে মাটি সরে যাওয়ায় সেতু নিচের দিকে দেবে ভেঙে গেছে।

স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক মুজাফফার হোসেন বলেন, সেতু পেরিয়ে হরিহর নদের দক্ষিণপাড়ে পাতন দাখিল মাদরাসা, মাদরাসা-লাগোয়া মসজিদভিত্তিক চলমান শিশু শিক্ষা কার্যক্রম ও পাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দেবিদাসপুর গ্রামের। তারা সেতু পার হয়ে ওপারে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়া আসা করে। সেতু ভেঙে যাওয়ায় বাচ্চারা বিপাকে পড়েছে। অনেক অভিভাবক ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাকে সেতু পারাপার করে স্কুল মাদরাসায় আনা নেওয়া করছেন। এই সেতুর উপর দিয়ে কৃষকরা ফসল আনা নেওয়া করেন। এই স্থানে দ্রুত নতুন সেতু না হলে স্থবির হয়ে পড়বে নদের দুই পাড়ের মানুষের জীবন।

পাতন দাখিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্র মাহাফুজ হোসেন জানায়, সেতু ভেঙে পড়ায় অনেক পথ ঘুরে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে।

ওই মাদরাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেবীদাসপুর গ্রামের। তারা এই সেতু পার হয়ে মাদরাসায় আসা-যাওয়া করে। এই সেতুর পূর্বপাশে আধা কিলোমিটার দূরে পাতন মোড় হয়ে নদের উপর সেতু আছে। এখন সেই সেতুর ওপর দিয়ে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা বেশি পাড়ি দিয়ে মাদরাসায় আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।’

মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, ‘হরিহর নদের এই স্থানে পুরনোটি ভেঙে নতুন সেতু করার জন্য দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে জানানো হয়েছে। এখন সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টিও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তারা এসে দেখে গেছেন।’

তিনি বলেন, এখানে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হলে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের বা কাঠের সাঁকো করতে হবে। তাছাড়া নদের গভীরতা অনেক। বিকল্প সাঁকো করার সামর্থ্য ইউনিয়ন পরিষদের নেই।

উপজেলা সসহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, সেতু ভাঙার খবর পেয়ে সরেজমিন দেখে এসেছি। দ্রুত সেতু বরাদ্দের জন্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)