যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন যশোরে অথচ লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে,২০২৬, ১১:০০ এ এম
চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন যশোরে অথচ লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম

যশোরের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে মুরগির ডিমের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। খুচরা বাজারে বর্তমানে বাদামি রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। যা গত মাসেও ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, প্রতিটি ডিমে দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন টাকা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

যশোর শহরের পালবাড়ি, মণিহার, ষষ্ঠিতলাপাড়া, চাঁচড়া, বড়বাজার, নিউমার্কেট ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই ডিমের হালি ছিল ৪০ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে হালিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা। আর গত এক মাসে ডজনে বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকায়। অথচ, মার্চ মাসেও একই ডিম বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। সে হিসাবে এক মাসে প্রতি ডিমে দাম বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার যদি প্রতিদিন চারটি ডিম খায়, তাহলে শুধু ডিম কিনতেই মাসে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।

শহরের পালবাড়ি এলাকার ডিম ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, “পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। আগে একশ’ ডিম ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় কিনতাম। এখন সেই ডিম কিনতে এক হাজার ২৫০ থেকে ১৩শ’ টাকা লাগছে। পরিবহন, শ্রমিক ও দোকান ভাড়া মিলে আমাদের খরচ আরও বেড়েছে।”

বড়বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. সোলেমান বলেন, গরমে ডিম দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অনেক খামারে উৎপাদনও কমেছে। বাজারে চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত মার্চের শেষদিক থেকে জুন পর্যন্ত ডিমের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। তীব্র গরমে মুরগির ডিম উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বর্ষাকালে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। আবার রমজান, ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবের সময় চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়ে।

গত তিন বছরের বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে যশোরে ডিমের ডজন ছিল ১১৫ টাকা, ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১২৫ টাকা এবং চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ, তিন বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, যশোরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পোলট্রি খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। জেলার দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ ডিম। অর্থাৎ, স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ডিম উৎপাদন হয়। উদ্বৃত্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ডিম প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

খামারিরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বেশি হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকে রাজধানীকেন্দ্রিক বড় আড়ত ও করপোরেট হাউজের হাতে। ফলে, যশোরে উৎপাদন বেশি হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় ভোক্তারা।

যশোর সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামের খামারি আরিফ হোসেন বলেন, ‘খামার পর্যায়ে আমরা প্রতি পিস ডিম ৯ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু খুচরা বাজারে সেটি ১২-১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝখানে কয়েক ধাপে হাতবদলের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় পাইকাররা কৃত্রিম সংকটও তৈরি করেন।’

খামারিরা জানান, গত এক বছরে মুরগির খাদ্যের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ফিড মানভেদে ২৪শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সেটি কিনতে হচ্ছে তিন হাজার থেকে ৩২শ’ টাকায়। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক মজুরি, ওষুধ ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ডিমের বাজার আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে সিন্ডিকেট বা মজুতদারির অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হবে।’

ডিমের মতো নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকার গৃহিণী ফারহানা মিতা বলেন, আগে দুই ডজন ডিম কিনে সপ্তাহ পার করা যেতো। এখন এক ডজন কিনতেই ১৫০ টাকা লাগে।’

পুলিশ লাইন এলাকার হাফিজুর রহমান বলেন, মাছ-মাংস আগেই নাগালের বাইরে ছিল, এখন ডিমও। ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

পোস্ট অফিসপাড়া এলাকার শারমিন কণা বলেন, সবজির দাম অনেক বেশি। আগে অন্তত ডিম দিয়ে চালিয়ে নেওয়া যেতো। এখন সেটাও কঠিন হয়ে গেছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)