কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
উপজেলা ও পৌর প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
এ খবর পেয়ে সোমবার (১ জুন) পৌর প্রশাসক নির্মাণ কাজ বন্ধসহ ওই অবৈধ স্থাপনাগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হবে বলে নোটিস দিয়েছেন। যার স্বারক নম্বর-কেশব/পৌর/২০২৬/২৯৩ ও কেশবপুর/পৌর/২০২৬/২৯৫।
সম্প্রতি কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চিহ্নিত ভূমিদস্যু একরামুস সালাম খান ও তার সহযোগীরা শহরের বাস ও ট্রাকটার্মিনাল-সংলগ্ন জেলা পরিষদ ও ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে সেখানে পৌর প্রশাসকের বিনা অনুমতিতে ১২টি দোকানঘরসহ একটি মার্কেট নির্মাণ করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই অবৈধ মার্কেট নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এরই মধ্যে ঈদের ছুটিতে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়ল ও সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল, সালাম খান ও তার ভাই আসলাম খান ৮/১০ জন নির্মাণশ্রমিক নিয়ে ২৭ মে রাত ১২টার পর এবং সকালে বন্ধ থাকা ওই মার্কেটের একটি ঘরের দরজা ও টিনের চাল নির্মাণ করেন। এখবর পেয়ে সকালে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশে কর্ণপাত না করে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখেন। ঈদের ছুটি শেষে পৌর প্রশাসক সোমবার (১ জুন) ওই মার্কেট নির্মাণকাজ বন্ধসহ তা ভেঙে ফেলার নোটিস দিয়েছেন।
এদিকে, বিএনপি নেতা কাশেম মোড়ল ও নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সম্প্রতি প্রেসক্লাব যশোরে ভুক্তভোগী দুটি পরিবার আলাদাভাবে দুইদিন সংবাদ সম্মেলন করে।
এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা গভীর রাতে সালাম খান ও তার সহযোগীদের ঘর নির্মাণ করতে সহায়তা করেছেন।
জানতে চাইলে সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, ‘জেলা পরিষদ ও ওয়াকফ জমিতে পৌর প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। সালাম খানকে দুই লাখ টাকা অ্যাডভ্যান্স দিয়ে আমার ভাই তাসের মোড়ল ওখানে একটি ঘর নিয়েছেন। ওই ঘরের চালা ও দরজা লাগানোর জন্য আমি সেখানে যাই এবং সেগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে।’
ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল বলেন, ‘ওখানে ঘর করার জন্য ভাইয়েরা ডেকেছিল, তাই গিয়েছি।’
এ ব্যাপারে পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুস সালাম খানকে মোবাইলফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘ফোনে কোনো বক্তব্য দেবো না।’ এর পরপরই তিনি ফোন লাইন কেটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুন বলেন, জেলা পরিষদ ও ওয়াকফ সম্পত্তিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রাতের আঁধারে তারা সেখানে দোকানঘর নির্মাণ কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওইসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হবে।