তাহানী আকতার
টিনএজে ‘অবসেশন’ বলতে সাধারণত এমন কোনো চিন্তা, ভয়, সন্দেহ বা তাগিদকে বোঝায় যা বারবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাথায় আসে এবং সহজে থামানো যায় না। তবে কৈশোরে অনেক চিন্তা বা কোনো বিষয় নিয়ে বেশি আগ্রহ থাকা অবশ্যই মানসিক রোগ নয়।
টিনএজদের মধ্যে দেখা যেতে পারে এমন অবসেশনের ধরন
১. জীবাণু, ময়লা বা অসুস্থতা নিয়ে অতিরিক্ত ভয় যেমন, ‘আমার হাতে জীবাণু লেগে আছে,’ ‘এই জিনিস ধরলে আমি অসুস্থ হয়ে যাবো’।
ফলে বারবার হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভূত হতে পারে। এটি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২. ভুল করে ফেলেছি কি না এই সন্দেহ যেমন, ‘আমি কি দরজাটা লক করেছি?’ ‘আমি কি পরীক্ষার খাতায় ভুল লিখেছি?’ ‘আমি কাউকে কোনো খারাপ কথা বলে ফেললাম কি?’
একই বিষয় বারবার যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ধর্মীয় বা নৈতিক চিন্তা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়
কোনো অনিচ্ছাকৃত চিন্তা বা কথা নিয়ে মনে হতে পারে, ‘আমি কি খারাপ মানুষ?’ বা ‘আমি কি অন্যায় কিছু করে ফেললাম?’
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনিচ্ছাকৃত চিন্তা থাকা মানেই সেই কাজটি করতে চাওয়া বা সেই বিশ্বাস থাকা নয়।
৪. অন্যের ক্ষতি করার ভয়
কখনো কিশোরের মাথায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভয়ংকর চিন্তা আসতে পারে যে, সে কাউকে ক্ষতি করে ফেলবে। এতে সে ভয় পেয়ে যায় এবং নিজেকে বারবার আশ্বস্ত করতে থাকে। এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত চিন্তা থাকা আর বাস্তবে কাউকে ক্ষতি করার ইচ্ছা থাকা এক বিষয় নয়।
৫. সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ যেমন, ‘বন্ধুটা কি সত্যিই আমাকে পছন্দ করে?’ ‘আমি কি তাকে কোনোভাবে কষ্ট দিয়েছি?’ ‘সে আমার ওপর রাগ করেছে কি?’
একই প্রশ্ন বারবার মাথায় ঘুরতে পারে এবং বারবার নিশ্চয়তা খোঁজার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
৬. শরীর ও চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা
কৈশোরে নিজের চেহারা, ত্বক, চুল বা শরীর নিয়ে সচেতনতা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা এত বেশি হয়ে গেল যে আয়না দেখা, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বা নিজের চেহারা নিয়ে বারবার পরীক্ষা করা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অবসেশন আর সাধারণ টিনএজ চিন্তার পার্থক্য
একজন কিশোর কোনো বিষয় নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ভাবলেই সেটি অবসেশন নয়। সাধারণত সমস্যা বোঝার জন্য দেখা যায় চিন্তাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার আসে কি না। চিন্তাটি থেকে অনেক উদ্বেগ বা অস্বস্তি হচ্ছে কি না। চিন্তা কমানোর জন্য বারবার কোনো কাজ করতে হচ্ছে কি না। পড়াশোনা, ঘুম, পরিবার, বন্ধুত্ব বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে কি না। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিন্তাটি আসছে কি না। মানসিক রোগে অবসেশনের পাশাপাশি তাড়না থাকতে পারে অর্থাৎ উদ্বেগ কমানোর জন্য বারবার কোনো কাজ করা বা মনে মনে কোনো কিছু করা। যেমন: ‘দরজা লক করেছি কি না’ বারবার সন্দেহ, বারবার দরজা পরীক্ষা করা প্রভৃতি। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই নিজে নিজে মানসিক রোগের পরীক্ষা করা উচিত নয়। যদি এগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা জীবনে উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি করে, তাহলে একজন কাউন্সেলর বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
লেখক: শিক্ষক, মেন্টর কাউন্সিলর স্টুডেন্ট সাইকোলজি