সম্পাদকীয়
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্প্রতি দেশের সব জেলা প্রশাসকের অফিসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী হরমুজ প্রণালি সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে এই উদ্যোগ সরকারি পর্যায়ে প্রশংসার দাবি রাখে। জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে বিকল্প উৎসে যাওয়ার যে মানসিকতা, তা সময়োপযোগী।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু নির্দেশ দিয়ে কি হবে? এর আগেও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সৌরপ্যানেল বসানো হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ও দায়িত্বহীনতায় সেসব প্যানেলের অধিকাংশই আজ অকেজো। অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের ওপর ভর করে কোনো প্রকল্প টেকসই হয় না। এটা নিশ্চয় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভালোমতো জানেন।
শহরাঞ্চলে বহুতল ভবনের অনুমতির জন্য সৌরপ্যানেল বাধ্যতামূলক থাকলেও কোথায় সেই বিধির প্রয়োগ হচ্ছে? ভবন মালিকরা সংশ্লিষ্টদের সহজেই ‘ম্যানেজ’ করে নেন। সরকারি উদ্যোগের সাফল্য তখনই সম্ভব, যখন বেসরকারি খাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
তাই আমরা দাবি করছি- প্রথমত, অতীতে যেসব সরকারি স্থাপনায় সৌরপ্যানেল বসানো হয়েছিল, সেগুলো কী কারণে ব্যর্থ হয়েছে, তার সুস্পষ্ট অনুসন্ধান হোক। দ্বিতীয়ত, যাদের গাফিলতি বা দুর্নীতিতে জনগণের টাকা অপচয় হয়েছে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। তৃতীয়ত, বেসরকারি বহুতল ভবনে সৌরপ্যানেল বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা নিতে বাধ্য করা হোক।
জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প কীভাবে নয়ছয় হয়েছে, তা আমরা ফ্যাসিবাদী জমানায় কাছ থেকে দেখেছি। এখন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দেশ শাসন করছে। বিপুল জনগোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট এই সরকার ইচ্ছা করলেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই আগের ব্যর্থতা, লুটপাটের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হোক, তা আমরা মোটেই চাই না।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ অবশ্যই বাস্তবানুগ। এখন দেখতে হবে তা কার্যকর করা হয় কীভাবে। আগের ব্যর্থতা ও অকর্মণ্য কর্মকর্তাদের গাফিলতির জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। এরপর নতুন প্রকল্পের সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন, দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে হাত দিন। নিশ্চয় সফলতা আসবে।
জনগণের প্রত্যাশা, নির্বাচিত সরকার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ব্যবস্থা নেবে। নইলে এটি হবে জনগণের ট্যাক্সের টাকার আরেকটি টাকা অপচয়ের আরেকটি ঘটনা।