যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

হৃদয় ভেঙে দেওয়া দুর্ঘটনা আর নয়

প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ জুন,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
হৃদয় ভেঙে দেওয়া দুর্ঘটনা আর নয়

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশ। প্রতিদিন গণমাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার খবর থাকেই। কিন্তু সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি সড়ক দুর্ঘটনা যেভাবে মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে, তা কেবল দুর্ঘটনার সংখ্যা বা মৃতের সংখ্যার হিসেবে নয়, বরং এর সাথে জড়িত মানবিক ট্র্যাজেডির গভীরতা আমাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যশোরের ঝিকরগাছার যুবক আরিফ, তার মা, ভাই, বোন ও কারচালকের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি স্বপ্নের নির্মম সমাপ্তি। দীর্ঘ ১১/১২ বছর মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করার পর নিম্নবিত্ত পরিবারের এই সন্তান দেশে ফিরেছিলেন বিয়ে করার আশায়। পরদিনই কনে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল তার। ভাগ্যের পরিহাস, যে হাসি ও উৎসবের জন্য তিনি এতোদিন অপেক্ষা করেছিলেন, তার বদলে গ্রামে নেমে এলো শোকের ছায়া। পুরো পরিবারটা ও তার সাথে পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

এর পরদিন একই মহাসড়কের নড়াইল অংশে আরেক ট্র্যাজেডি। ক্যানসার আক্রান্ত স্বামী ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করায় যে নারী তার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তিনিও পথেই প্রাণ হারালেন। স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ একসাথে পৌঁছালো বাড়িতে। পৃথিবীর কোনো ভাষায় সম্ভবত এতো বেদনাদায়ক মিলনের বর্ণনা করা সম্ভব না।

এই দুই ঘটনাই আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে। তা হলো, বাংলাদেশের সড়কগুলো কার্যত মৃত্যুফাঁদ। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মনোভাব, চালকের বেপরোয়া আচরণ, যানবাহনের ত্রুটি, আইনের শিথিল প্রয়োগ, কোথাও কোথাও সড়কের দুর্দশা- সব মিলিয়ে বেঘোরে অকালমৃত্যু ডেকে আনছে মানুষের।

সড়কে প্রাণপাত যেহেতু আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে, তাই বেশিরভাগ ঘটনা মানুষকে টাচ করে না। কিন্তু সব মৃত্যু একরকম না। যখন একটি দুর্ঘটনা পুরো একটি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যখন আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নেয়, স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ভালোবাসার করুণ পরিণতি হয়, তখন তা মানুষকে আলাদাভাবে নাড়া দেয়।

এমন ট্রাজিক ঘটনা আর কত দেখতে হবে আমাদের? সরকারি উদ্যোগে কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ কি নেওয়া যায় না? যেমন, সড়ক নিরাপত্তা আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা সংস্কার, এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন যান ও বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

আমরা সবাই জানি, জীবন অমূল্য। কিন্তু সেই অমূল্য জীবন এভাবে বেঘোরে কেন হারাবে? কেন দুর্ঘটনা একটি পরিবারের স্বপ্নকে চিরতরে শেষ করে দেবে?

আরিফের বিয়ে হয়নি। ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীকে শেষ বিদায় জানানোর ইচ্ছাও পূরণ হয়নি সদ্যবিধবার। আমরা যদি এই ঘটনাগুলোকে থেকে শিক্ষা নিতে না পারি, তাহলে আগামীকাল আরও আরিফ, আরও অসহায় নারীর স্বপ্নভঙ্গ হবে।

আসুন, সড়কে ফিরিয়ে আনি শৃঙ্খলা, ফিরিয়ে আনি বিবেক।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)