যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

সরকার বুদ্ধিজীবী ও জনগণের প্রতিক্রিয়া হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত

প্রকাশ : বুধবার, ৩ জুন,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
সরকার বুদ্ধিজীবী ও জনগণের প্রতিক্রিয়া হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত

মঙ্গলবার দৈনিক সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যশোরের বেনাপোল সীমান্তের ওপারে তিনটি বাসে করে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ১০০ থেকে ১২০ নারী-পুরুষ-শিশুকে জড়ো করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের মধ্যে দশজনের মতো একটি দলকে মধ্যরাতে বাতি নিভিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি আগে থেকেই সতর্ক ছিল। ফলে বিএসএফের প্রচেষ্টা প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়। ঠেলে দেওয়া ওই নারী-পুরুষ-শিশুরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি ওই ব্যক্তিরা সত্যিই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে তাদের গ্রহণ করতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রক্রিয়াটি হতে হবে আন্তর্জাতিক আইনসিদ্ধ। কাউকে জোর করে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে অন্য দেশে পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। যথাযথ প্রমাণসাপেক্ষে ওই নাগরিকদের বিধি অনুযায়ী বৈধ ইমিগ্রেশন স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে।

কিন্তু বিএসএফ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা এমনকি ওই ব্যক্তিদের ঠেলে দেওয়ার কথাও বেমালুম অস্বীকার করছে। যদিও বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বলছেন, তাদের কাছে এই সংক্রান্ত ফুটেজ আছে এবং শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষেরাও সেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন। এরপরও নিজেদের অবৈধ অবস্থানে অনড় থাকতে গোঁ ধরা খুবই অন্যায়।

ভারতের পশ্চিমবাংলায় গেল মাসে হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয় পাওয়ার পর থেকেই সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানবিরোধী গরম গরম বক্তৃতা এবং মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতি করে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়গুলো একের পর এক গায়ের জোরে গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। একই পদ্ধতিতেই তারা রাজ্যগুলোর ক্ষমতাও কবজা করছে।

পশ্চিমবাংলায় বিজেপির ক্ষমতারোহণের পরপরই সেখানকার মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। বহু স্থানে মুসলিম ব্যক্তি, তাদের সম্পত্তি ও মসজিদ আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি গেল সপ্তাহের ঈদুল আজহায় মুসলিমরা গরু কোরবানিও করতে পারেননি।

বিজেপির জয়ের পর ভারতের উত্তর প্রদেশের ছায়া পড়েছে পশ্চিমবাংলায়। সেখানে ভোটে বিজেপি জয়ী হতে চলেছে- এমন আভাস মেলার পরপরই দলটির উগ্র সমর্থকরা বুলডোজার নিয়ে রাস্তায় মিছিলে নামে। এই বুলডোজার হলো মুসলিমদের সম্পত্তি ধ্বংসের প্রতীক, যার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে আরেক উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশে।

পশ্চিমবাংলার নির্বাচনে বিজয়ের পর বাংলাদেশ-ভারতের বিস্তীর্ণ সীমান্ত পরিস্থিতি যে অস্থির হয়ে উঠবে- এটা অনুমিতই ছিল। ভারতকে যারা শুধু হিন্দুদের বসবাসের স্থান হিসেবে বিবেচনা করেন, তাদের মতো পশ্চাৎপদ চিন্তার রাজনীতিকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বা সুপ্রতিবেশিসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করা বাতুলতামাত্র। বিজেপি তাদের উগ্রবাদী তৎপরতা চালিয়ে যাবে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোটের বাক্স স্ফীত করতে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যদের ওপর নীপিড়ন চলবে। প্রতিবেশি বাংলাদেশ সীমান্তে কারণে-অকারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।

এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে এখন উদার মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় তাদের পক্ষে ধর্মীয় কার্ড খেলা সম্ভব হবে না। কিন্তু সীমান্তের ওপারে মুসলিম নির্যাতনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মধ্যে তার অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া হবে। একদিকে বাড়বে ভারতবিরোধিতা (যদিও ভারতের জনপ্রিয়তা এই দেশে শেখ হাসিনার আমলেই প্রান্তিক পর্যায়ে নেমেছে), অন্যদিকে রমরমা হবে ভারত তথা হিন্দুত্ববাদবিরোধী রাজনীতি। ভারতের নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে যদি বাংলাদেশেও ধর্মীয় রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত হয়, তা হবে পশ্চাদগামিতা। বাংলাদেশের প্রগতির পথে যাত্রা থমকে গেলে এই দেশের সব অর্জন শেষ হয়ে যাবে।

সেকারণে সম্ভাব্য শত উসকানিতেও সরকার ও দেশবাসীর প্রতিক্রিয়া হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত। এক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা হবে অন্যতম প্রধান। পশ্চাৎপদ চিন্তার প্রতিক্রিয়ায় নিজেদেরও একই পথে চালিত করলে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশ ও অভাবনীয় গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে লাভ করা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ নিশ্চয় প্রগতির পথেই হাঁটবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)