তসলিম শিমুল
১৯৮১ সালে মক্কা ও তায়েফে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, The Islamic countries should develop a separate banking system of their own in order to facilitate their trade and commerce. এই বক্তব্য শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রস্তাব ছিল না; বরং মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ছিল।
শহীদ জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে, মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির জন্য নিজস্ব মূল্যবোধভিত্তিক ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। তার এই চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকাশে। পরবর্তীতে দেশে ইসলামি ধারার ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি অর্থনীতির প্রসারে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার পেছনে জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান সময়ে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এবং তারেক রহমান দলটির নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন । সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শহীদ জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শন ও ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কিত ভাবনাকে বাস্তবায়ন ও শক্তিশালী করা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও নৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এ খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক ও সামাজিক- উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারেক রহমান যদি শহীদ জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক চিন্তাধারাকে সামনে রেখে ইসলামি অর্থব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশে ভূমিকা রাখেন, তবে তা বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে পারে।
তবে ইসলামি ব্যাংকিং আন্দোলনের সাফল্য কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়; এটি দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়। একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা তখনই সফল হয়, যখন তা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হয়। তাই ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পাশাপাশি পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও নীতিনিষ্ঠ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার সেই স্বপ্ন ও ভাবনার আলোকে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আর বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এটি হতে পারে প্রতিষ্ঠাতার অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
লেখক: ব্যাংকার
*মতামত লেখকের নিজস্ব