যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আটক হয়েই মুক্তি, পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট!

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২৬, ০৩:০১ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন,২০২৬, ০১:৩৭ এ এম
আটক হয়েই মুক্তি, পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট!

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আটক হওয়ার পর গোপনে মুক্তি পাওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে (রিমুভ) ফেলেছেন কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রোকনউজ্জামান খান (রোকন)।

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে কচুয়ার জরিনা বাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকন খানকে আটক করেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিৎ। কিন্তু আটকের পর তাকে ফাঁড়িতে বা আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে রহস্যজনক কারণে মাঝপথ থেকেই গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোপনে মুক্তি পেয়েই ছাত্রলীগ নেতা ‘Rokon Khan’ নামের নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে 'ছোট ভাইয়ের' চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে তিনি ছাড়া পান।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকে আটকের পর পুলিশের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই নেতার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে পুলিশ ও সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগের ওই নেতা।


এই ঘটনার পর নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিতের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অপরাধী বা সন্দেহভাজনকে থানায় বা ক্যাম্পে না নিয়ে কেন মাঝপথ থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় পাঠানোর নাম করে মাঝপথের রাজারহাটে এনে ছেড়ে দেন এই এএসআই বিশ্বজিৎ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিশ্বজিৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন। তিনি ভাষ্য, ‘একটি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য আমরা জরিনাবাজারে গিয়েছিলাম। রোকনুজ্জামান খানকে হেফাজতে নিয়ে তার ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওয়ারেন্টে থাকা আসামির পিতার নামের সাথে তার পিতার নামের মিল না থাকায় আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ খানের শরণাপন্ন হই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা যাকে খুঁজছি এই রোকন সেই ব্যক্তি নন। ভুল ভাঙার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের সময় আমি জানতাম না যে রোকনুজ্জামান রোকন একজন ছাত্রলীগ নেতা, তাকে আমি আগে থেকে চিনতামও না। পরে শুনেছি তিনি নাকি এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমিও এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)