রূপক মুখার্জি
, নড়াইল
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৪ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে মেছের আলী ও মাজু বিবির ঘরে জন্ম নেন এই কিংবদন্তি। বাল্যকালে তার ডাকনাম ছিল ‘লাল মিয়া’।
বরেণ্য এই শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালায় কোরআন খতম, শিল্পীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও চিত্রাঙ্কনসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এস এম সুলতান ছিলেন একাধারে মাটি ও মানুষের শিল্পী। তার শিল্পকর্মের মূল বিষয়বস্তু ছিল বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার ও কুমারের জীবনসংগ্রাম ও শ্রমজীবী মানুষের বলিষ্ঠ উপস্থিতি। আঁকাআঁকির পাশাপাশি বাঁশি বাজানোয় ছিল তার অগাধ অনুরাগ। পশুপাখি ভালোবাসতেন বলেই নিজ বাড়িতে পুষতেন সাপ, ভাল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না ও গিনিপিকের মতো নানা প্রাণি।
নতুন প্রজন্মকে শিল্পের সাথে যুক্ত করতে তিনি নড়াইলের পুরুলিয়ায় ‘নন্দন কানন ফাইন আর্টস স্কুল’, যশোর এম এম কলেজে ‘অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস স্কুল’ এবং নড়াইলের কুড়িগ্রামে বিখ্যাত শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিশুস্বর্গ’ গড়ে তোলেন। শিশুদের চিত্রা নদীর বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি একটি বৃহৎ বজরা নৌকাও তৈরি করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি গঠন করেন ‘লাল বাউল সম্প্রদায়’ নামের সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নড়াইলে ‘সুলতান কমপ্লেক্স’ এবং ২০০৯ সালে ‘এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
চিত্রশিল্পে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পান এই শিল্পী। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া তিনি একুশে পদক (১৯৮২), স্বাধীনতা পদক (১৯৯৩) এবং বাংলাদেশ সরকারের ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ (১৯৮৪) সম্মাননা লাভ করেন।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান চিত্রশিল্পী। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।